পঞ্চগড়ে জমি নিয়ে বিরোধ, বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: 

পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মুক্তা বেগম তার মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টা, মিথ্যা মামলা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন একই ইউনিয়নের ফুলপাড়া গ্রামের শুকুর আলী ও তার ছেলে মাসুদের বিরুদ্ধে।

মুক্তা বেগমের দাবি, তার প্রয়াত বাবা গজাম উদ্দীন জীবদ্দশায় বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে মোট ৬ দশমিক ৩৯ একর জমি নিজের নামে নামজারি করেন। বাবার মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ওয়ারিশদের কাছ থেকে দানপত্রের মাধ্যমে বিষ্ণুনারায়নী মৌজার ২৩০৮ নম্বর দাগের ৩৩ শতক জমি তিনি গ্রহণ করেন।
তিনি জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পঞ্চগড় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার নামে জমিটির নামজারি অনুমোদন করেন। পরে ১৬০৭ নম্বর নামজারি খতিয়ান খোলা হয় এবং তিনি নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে জমি ভোগদখলে রয়েছেন।
মুক্তা বেগম বলেন, তার নামজারি খতিয়ান বাতিলের জন্য শুকুর আলী আবেদন করেছিলেন। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেই আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করা হলেও সেটিও খারিজ হয় এবং আগের আদেশ বহাল থাকে।
তার অভিযোগ, এরপরও শুকুর আলী পঞ্চগড় থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছেন। তার দাবি, শুকুর আলীর কাছে ওই জমির কোনো বৈধ দলিল, নামজারি, হোল্ডিং বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদ নেই।

মুক্তা বেগমের মেয়ে মনিরা আক্তার বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই এই জমি নিয়ে বিরোধ দেখে আসছি। একাধিক মামলায় আমরা রায় পেয়েছি। তারপরও আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। জমিতে চাষাবাদ করার জন্য কাউকে ডাকলেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এমনকি শ্রমিকদের ফোন করে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, আমার মা প্রায় ১৬-১৭ বছর ধরে প্রবাসে থাকেন। বাবা নেই, ভাইও নেই। মা বিদেশে থাকায় জমি দেখাশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সুযোগে বারবার মামলা করা হচ্ছে। গত নয় মাসেই আমার মায়ের নামে আরও তিনটি মামলা হয়েছে। এমনকি আমার বৃদ্ধ নানীকেও আসামি করা হয়েছে।
মনিরার অভিযোগ, শুকুর আলীর ছেলে মাসুদ স্থানীয় বিএনপির একজন নেতা। তিনি দলীয় প্রভাব দেখিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি দেন। তারা ২৫-২৬ জন লোক নিয়ে জমিতে এসে ফসল নষ্ট করেন। চারপাশের সব জমিতে চাষ হলেও আমাদের জমিতে কেউ কাজ করতে রাজি হন না, কারণ সবাই এটিকে ঝামেলার জমি বলে এড়িয়ে যান।

মুক্তা বেগমের জামাতা ইসমাইল হোসেন কাজল বলেন, শাশুড়ি বিদেশে থাকায় পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে তিনি জমি দেখাশোনা করেন। কিন্তু স্থানীয়ভাবে শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে গেলেই বাধা দেওয়া হয়।
তার ভাষ্য, মাসুদ নিজেকে স্থানীয় বিএনপির ওয়ার্ড সেক্রেটারি পরিচয় দিয়ে আমাকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখান। একা পেলে পা ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। এমনকি বাড়িতে ফোন করেও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। ঘর মেরামতের জন্য কাঠ এনে রাখলেও তা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এলাকার লোকজন বাধা দেওয়ায় সেটি নিতে পারেননি।"
এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে জমির সব কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন মুক্তা বেগম।

এ বিষয়ে শুকুর আলীর ছেলে ও ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ বলেন, জমিটি আমাদের। তাই আমরা তাদের হালচাষ করতে বাধা দিয়েছি। আদালতের রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা কীভাবে রায় পেয়েছে, তা আমাদের জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলতে চাই।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শুকুর আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার বাসায় গিয়ে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। সাংবাদিকরা সেখান থেকে চলে আসার পর তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।