স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের পরদিন মোরেলগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ক্লিনিক সিলগালা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামাল হোসেনের ব্যক্তিগত ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের পরদিন রোববার এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পান। অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতাল-সংলগ্ন ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের ক্লিনিকেও যান তিনি।
রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালটি কার্যকরভাবে পরিচালনার পরিবর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ক্লিনিক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। সেখানে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো।
গতকাল রোববার স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক শেখ মো. মোশাররফ হোসেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–সংলগ্ন ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। পরে ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়। এর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে তিনি প্রায় ২৯ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পড়ে থাকার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
শনিবার হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় শৌচাগারে স্যালাইনসহ বিভিন্ন সামগ্রী এবং পরিত্যক্ত ভবনে বিপুল পরিমাণ ওষুধ নষ্ট হতে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বিভাগীয় পরিচালক শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালটি পরিদর্শন করছি। হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নির্দিষ্ট সময়ে অপসারণ করা কেন হয়নি, সে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালে কর্মরত যেসব কর্মকর্তার সময়ে বিপুল পরিমাণের ওই ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, ওই সব কর্মকর্তাকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।”
তিনি হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনে থাকা প্রায় ২৯ লাখ টাকা মূল্যের ৩০ ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যথাযথ প্রক্রিয়ায় অপসারণ এবং এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাতে জেলা সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেন। পরে বিকেলে ক্লিনিকটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। ক্লিনিকটির লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। সেটির মেয়াদ দুই বছর আগেই শেষ হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন দাবি করেন, ক্লিনিকটি তাঁর নয়, এটি তাঁর ভাইয়ের। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ক্লিনিকটি তিনিই পরিচালনা করতেন এবং সেখানকার চিকিৎসকও তিনি। প্রতিষ্ঠানটির মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সের তথ্য অনুযায়ী মালিক হিসেবে কামাল হোসেনের ভাইয়ের নাম থাকলেও ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কামাল হোসেনের তথ্য।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আ স ম মাহবুবুর রহমান সোমবার মুঠোফোনে বলেন, “স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেহেতু অভিযোগ করে গেছেন, সেই পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা ওই ক্লিনিক সিলগালা করেছি। প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে এর কাগজপত্র করতে পারেনি। আবার এটা নিয়ে মামলা আছে। আপাতত এটা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।”