খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার প্রমাণ, তহসিলদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশালঃ 

বরিশালের হিজলা উপজেলায় সরকারি খাসজমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার)কে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের (সাময়িক বরখাস্তকৃত) ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল। তিনি জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি খাসজমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় তাঁকে চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করেছে।

জানা গেছে, গত ২২ জুলাই বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমির বিপরীতে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে হোল্ডিং খুলে দেন তিনি। এতে সরকারি স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টির আগের পদবি ব্যবহার করে প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

এছাড়া রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির ঘটনাও তদন্তে ধরা পড়ে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে তদন্তে বলা হয়েছে, শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষতি হয়েছে বলে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় মনে করেছে, এমন কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণের পাশাপাশি বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল বলেন, উপজেলা ভূমি অফিসে বরখাস্তের আদেশ পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ খাসজমি উদ্ধার করা হয়েছে। এরপরও কোথাও সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানায় থেকে গেলে তা শনাক্ত করতে সার্ভেয়ারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে এমন জমি পাওয়া গেলে দ্রুত উদ্ধার করা হবে।