প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬
সময়: ০৯:৪০ পিএম
বিয়ে ও প্রেমের সম্পর্কের আড়ালে প্রতারণার অভিযোগ, একাধিক নারীর দাবি; অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তের
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিয়ে ও প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করা একাধিক নারী অভিযোগ করেছেন, একই কৌশল অবলম্বন করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
অনুসন্ধানে অভিযোগকারী এক নারী, যিনি নিরাপত্তার স্বার্থে "ছন্দ" ছদ্মনাম ব্যবহার করতে অনুরোধ করেছেন, জানান—অভিযুক্তের নাম আলমগীর বাদশা। তার বাড়ি নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার মুদিপাড়া গ্রামে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলমগীর বাদশা প্রথমে নিজেকে পারিবারিক সমস্যার শিকার হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি দাবি করতেন, দীর্ঘদিনেও প্রথম স্ত্রীর সন্তান না হওয়ায় সামাজিক অপবাদ এড়াতে দ্বিতীয় বিয়ে করতে চান। এই আবেগঘন বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নারীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হতো। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হতো। কেউ অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মানসিক চাপ, অপমান কিংবা সম্পর্ক বিচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক অভিযোগকারীর দাবি, এভাবে বিভিন্ন নারীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত একাধিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং একই ধরনের কৌশলে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন।
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে, বর্তমানে অভিযুক্ত ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী গ্রামের এক নারীর সঙ্গে সংসার করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই নারীও অভিযুক্তের চাকরি ও আর্থিক অবস্থান সম্পর্কে দেওয়া বিভিন্ন আশ্বাসে প্রভাবিত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নারীর বক্তব্য স্বাধীনভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত নিজেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। এরপর প্রেম বা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতেন। অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থ বা অন্যান্য সুবিধা পাওয়া বন্ধ হয়ে গেলে তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুন আরেকজনকে লক্ষ্যবস্তু বানাতেন।

এ বিষয়ে আলমগীর বাদশার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, "প্রয়োজনে আমি আইনগতভাবে এসব অভিযোগের মোকাবিলা করব এবং যথাযথ প্রমাণের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ করব।