সম্পত্তি আত্মসাদের চেষ্ঠায় প্রবাসীর বৃদ্ধ পিতার উপর হামলা ও ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: 

সুনামগঞ্জের ছাতকে  সন্তানরা বিদেশে থাকায় সম্পত্তি আত্মসাদের চেষ্ঠায়  প্রবাসীর বৃদ্ধ পিতাকে পরিকল্পিতভাবে হামলায় গুরুতর জখম করে ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে । গেল ১৯ জুন দুপুরে উপজেলার বারগোপী গ্রামের নিজ বাড়ীর পাশে এই হামলার শিকার হন এই বৃদ্ধা। এঘটনায়  ছাতক থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে । ঘটনার সাথে জড়িত আব্দুল হান্নান  ও রাসেল আহমদ নামের দু’জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার বিকালে আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত রাসেলকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ছাতক উপজেরার দোলারবাজার ইউনিয়নের বারগোপী গ্রামের বাসিন্দা হাজী মৌর আলী সন্তানরা ইউরোপ প্রবাসে থাকার সুবাধে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীর নিকটাত্মীয়দের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। দীর্ঘদিন চলা অভিযুক্তরা তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েও কাজে না আসায় গত ১৯ জুন দুপুরে উপজেলার বারগোপী গ্রামের নিজ বাড়ীর পাশে এই বর্বরোচিত হামলা চালায় বলে জানা গেছে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। এসময় তার কাছে থাকা নগদ ৭২,২০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা।  হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে এবং আত্মীয়-স্বজনদের সাথে পরামর্শ করে ঘটনার কিছুদিন পর গত ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে ছাতক থানায় মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী। (মামলা নম্বর: ০২, তারিখ: ০২/০৭/২০২৬)। দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় (১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৭৯/৫০৬(২) পেনাল কোড)। 

ভুক্তভোগী  বারগোপী গ্রামের বাসিন্দা হাজী মৌর আলী জানালেন, ঘটনার দিন বিবাদী আব্দুল হান্নান (৫৫), রাসেল আহমদ (২১) ও পাভেল (১৯) পরিকল্পিতভাবে তার গতিরোধ করে। বিবাদী আব্দুল হান্নানের  হুকুমে রাসেল তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি তা প্রতিহত করার সময় আঘাতটি তার মুখে লাগে। এতে তার উপরের পাটির সামনের তিনটি দাঁত ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর জখম হন। এরপর পাভেল নামের অপর এক অভিযুক্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে অভিযুক্তরা তার পকেটে থাকা নগদ ৭২,২০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং সম্পত্তি ছাড়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোফাখ খারুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে প্রধান অভিযুক্তের পর পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মামলার দ্বিতীয় আসামি রাসেলকে গ্রেপ্তার করে রোববার বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ৫ জুলাই আব্দুল হান্নানকে গ্রেফতার করা হয়  এবং বাকি পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানালেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

প্রবাসীর বৃদ্ধ পিতার ওপর এমন নৃশংস হামলা এবং সম্পত্তি গ্রাসের অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারসহ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।