প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬
সময়: ১১:১৮ এএম
চুরি-ছিনতাইয়ে আতঙ্কিত সায়েদাবাদ, কিশোর গ্যাং ঠেকাতে নিয়মিত পুলিশি টহলের দাবি
মোঃ বশির আহমেদ সানি :
রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। এলাকায় সক্রিয় একটি কিশোর গ্যাং চক্র বিভিন্ন সময়ে ছিনতাইয়ের পাশাপাশি বাসাবাড়ি, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বৈদ্যুতিক তার, এসির বিভিন্ন যন্ত্রাংশসহ মূল্যবান মালামাল চুরি করছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে নিরাপত্তাহীনতা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরদের হাত থেকে সচল কিংবা অচল—কোনো ধরনের বৈদ্যুতিক তারই রেহাই পাচ্ছে না। বিভিন্ন ভবন ও প্রতিষ্ঠানে থাকা এসির মূল্যবান যন্ত্রাংশও খুলে নিয়ে যাওয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাবালে নূর মসজিদ মাদ্রাসা ও এতিমখানা, ৪/৪ সায়েদাবাদের সুরমা বিল্ডিংয়ের সেলুন ব্যবসায়ী আবু বক্কর, ৪/২ সায়েদাবাদের একটি ভবন, ফল ব্যবসায়ী সবুজ, আল্লাহ ভরসা মোটরসের সুজন এবং লিমন মটরসের লোকমান, উত্তর সায়দাবাদের নান্টুর সহ আরও কয়েকটি বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠান চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে বৈদ্যুতিক তার ও এসির যন্ত্রাংশ রয়েছে। এসব চুরির কারণে শুধু মালামালের মূল্যই নয়, বিদ্যুৎ সংযোগ ও এসি ব্যবস্থা পুনরায় সচল করতেও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় অপরাধের ঘটনা ঘটলেও নিয়মিত পুলিশি টহল কার্যক্রম চোখে পড়ে না বললেই চলে। বিশেষ করে রাতের বেলায় সায়েদাবাদের বিভিন্ন অলিগলি ও ভেতরের সড়কে পুলিশের উপস্থিতি নাই বলে দাবি তাদের।
তাদের ভাষ্য, নিয়মিত পুলিশি টহল ও নজরদারি থাকলে অপরাধীদের মধ্যে অন্তত একটি ভীতি তৈরি হতো। কিন্তু পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা কম থাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, অপরাধপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে না কেন?
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া মালামাল কোথায় যাচ্ছে এবং এসব মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে কোন চক্র জড়িত, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এলাকার অনেক বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী নিজেদের বাসাবাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠান নিয়েই আতঙ্কে রয়েছেন। রাতে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে যাওয়ার পর পরদিন সেটি অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যাবে কি না—এ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে তাদের।
সায়েদাবাদের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়াবে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধ এবং চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।