কেরানীগঞ্জে কিশোরী তানজিলা হত্যার ২৪ ঘণ্টায় ঘাতক গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তি

তাছলিমা তমা : 

রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী কিশোরী মোসাঃ তানজিলাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় জড়িত ঘাতককে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যায় ব্যবহৃত চাকু, ভিকটিমের মোবাইল ও অলংকারও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে গত ২৭/০৭/২০২৬ তারিখ দুপুর ২টার দিকে ভিকটিম মোসাঃ তানজিলা (১৭) তার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে বের হয়ে খালার বাসায় যায়। সেখান থেকে বিকাল ৪টার দিকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়ে সে আর ফেরেনি। পরদিন ২৮/০৭/২০২৬ তারিখ সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মদিনানগর মাদ্রাসা ও মসজিদের পাশে একটি মিনির হাজির পুকুরের মধ্যে তানজিলার গলাকাটা মৃতদেহ পাওয়া যায়।

এই ঘটনায় নিহতের মা মোসাঃ নাসলিমা বেগম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই ঢাকা জেলা।

মাত্র ২৪ ঘণ্টায় পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোরশেদ এর নির্দেশনায় তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৯/০৭/২০২৬ তারিখ রাত ৩:৩০টায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে ঘাতক মোঃ রানা হাওলাদারকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপায়। সে কেরানীগঞ্জে অটোরিকশা চালায়।

হত্যার কারণ ও স্বীকারোক্তি: 
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রানা হাওলাদার জানায়, ভিকটিম তানজিলার সাথে তার গত ৬-৭ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তানজিলা তার কাছে ৩০ হাজার টাকা চেয়েছিল। টাকা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে রাগের মাথায় রানা তানজিলার গলা চেপে ধরে এবং ফল কাটা চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। পরে ভিকটিমের ২টি মোবাইল, রুপার চেইন ও ব্রেসলেট নিয়ে পালিয়ে যায়।

গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্য মতে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু ও ভিকটিমের ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়। পরে সে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

পিবিআই জানায়, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।