প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬
সময়: ০৭:০১ পিএম
কুলিয়ারচরে বিদ্যালয় কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব: উত্তেজনার মুখে মানববন্ধন স্থগিত, সামনে তদন্তের প্রশ্ন
মোঃ মাইন উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের দড়িগাঁও ৪৩নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবার প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ঘিরে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, কমিটির বৈধতা নিয়ে বিতর্ক এবং শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় পূর্বনির্ধারিত মানববন্ধন স্থগিত- সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদা আক্তারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ, অপপ্রচার ও শিক্ষকদের অপমানের প্রতিবাদ ও বৈধ ব্যবস্থাপনা কমিটি বানচালের অভিযোগে মোঃ মনিরুজ্জামান মোস্তাক ও কামাল হোসেনের বিচার দাবিতে একটি মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
তবে কর্মসূচি শুরুর আগেই আয়োজকদের পাশাপাশি বিরোধী পক্ষের লোকজন বিদ্যালয় মাঠে অবস্থান নিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষের দিকে গড়াতে পারে এমন আশঙ্কা দেখা দিলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও কুলিয়ারচর থানা পুলিশকে অবগত করা হলে থানা পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় মানববন্ধন স্থগিত করার কথা বলেন।
এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তাঁর কাছে মনে হয়েছে, কর্মসূচি চললে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তিনি আয়োজকদের মানববন্ধন স্থগিত করার পরামর্শ দেন।
সাবেক ইউপি সদস্য রুমান খান অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে মানববন্ধন বানচাল করতেই বিরোধী পক্ষের লোকজন বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, আমরা কোনো সংঘাত চাইনি। প্রশাসন ও পুলিশের পরামর্শেই কর্মসূচি স্থগিত করেছি।
অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোঃ মনিরুজ্জামান মোস্তাক। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। তাঁর দাবি, মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি, বরং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, দুই পক্ষের অবস্থানের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে এমন তথ্য পাওয়ার পর শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে মানববন্ধন স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।
তবে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈধতা, অনিয়মের অভিযোগ এবং চলমান তদন্তের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনও জানা যায়নি।