প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬
সময়: ০৪:১২ পিএম
সাভার-ঢাকার বিতর্ক পেরিয়ে এবার চাঁদপুরে আলিফ
মো: বশির আহমেদ সানি :
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিতর্কিত নির্বাহী প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের পদায়ন ঘিরে সংস্থাটির অভ্যন্তরে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ’ এর প্রভাবশালী নেতা হিসেবে সুবিধা নেওয়া এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম এবং পাহাড়সম দুর্নীতির ঢাল-পালা ছড়ানোর অভিযোগ উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিপিএ-র শীর্ষ নেতাদের অনেকেই ওএসডি বা কোণঠাসা হলেও মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের গায়ে কোনো আঁচ লাগেনি। অদৃশ্য শক্তির ছায়ায় তিনি একের পর এক ‘প্রাইজ পোস্টিং’ পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ ইইডির সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।
গত ৩০ মার্চ, ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে প্রকৌশলী আলিফকে সাভার থেকে সরিয়ে ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হয়। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের অপসারণের জোরালো দাবির মুখে এই পদায়নকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা।
তাদের দাবি, আগারগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নতুন প্রধান কার্যালয় নির্মাণের প্রায় ১০০ কোটি টাকার একটি টেন্ডার মূল্যায়নের কাজ চলাকালে এক বিশেষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা পাইয়ে দিতে প্রায় ২ কোটি টাকার লেনদেনের বিনিময়ে তাঁকে সাভারে থেকে ঢাকায় আনা হয়েছিল।
শুধু তা-ই নয়, সাভার জোনে থাকাকালে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পে কাজ সম্পাদন করার আগেই প্রায় ৩০ কোটি টাকার অগ্রিম বিল ছেড়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ অনিয়মের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাভারের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিম্নমানের ও অসম্পূর্ণ কাজের বিপরীতে সরকারি অর্থ ছাড়ের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এর আগে সহকারী প্রকৌশলী থাকাকালেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ও বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। তবে তৎকালীন সরকার সমর্থিত প্রকৌশলী সংগঠনের প্রভাব খাটিয়ে শাস্তি এড়ানোর পাশাপাশি পদোন্নতি বাগিয়ে নেন তিনি।
ঢাকায় তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের মাঝেই গত ২৩ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অপর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মোজাহিদুল ইসলাম আলিফকে চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়।
পরবর্তীতে ২৭ জুলাই চাঁদপুর ইইডি কার্যালয়ে বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম শরীফের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক দায়িত্ব বুঝে নেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ বার্তা বিচিত্রাকে বলেন, "এসব বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে পারব না। আমি অসুস্থ আছি, পরে কথা হবে।" এরপর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
প্রশাসনিক পর্যায়ে একের পর এক সুবিধা পেয়ে বহাল থাকায় অধিদপ্তরে ক্ষোভ বাড়ছে। বিএনপি ও জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন প্রকৌশলী ও কর্মচারীর দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্রকে আড়াল করতেই এমন সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এদিকে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যদি মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান চালায়, তবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। বশির আহমেদ সানির তথ্যচিত্রে, তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব, আগামী পর্বে থাকছে আলিফের রাজধানী ঢাকা ও গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর সম্পত্তির ফিলিস্তি।