প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
সময়: ০২:৪৩ পিএম
সাভারে বিএনপি নেতার আশ্রয়ে ২৪ এর হত্যা মামলার আসামী ফারুকের অপকর্মের বিস্তর অভিযোগ
শাহ্ আলমঃ
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় এক হত্যা মামলার আসামি, সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা, ফারুক হোসেন আছেন বহাল তবিয়তে। কাউন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি স্থানীয় বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় নানা ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাউন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন কবিরাজের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। তবে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগগুলোর দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোনো প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি (পিটিশনী মামলা নং-৬৮৪/২০২৪) পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলমান এই মামলায় অস্ত্রধারী,সন্ত্রাসী ফারুক হোসেনকে ৩২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র থেকে দাবি করা হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফারুক হোসেন সাবেক সংসদ সদস্য আগা খান মিন্টু এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তবে স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে আক্তার কবিরাজ ও ফারুক হোসেনকে একাধিকবার একসঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে দেখা গেছে। এ সংক্রান্ত কিছু আলোকচিত্র এ প্রতিবেদকের হাতে এলেও সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "একজন হত্যা মামলার আসামিকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া কোনো দায়িত্বশীল নেতার জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
এলাকাবাসীর দাবি, এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক, যাতে এলাকায় শান্তি ও বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা বজায় থাকে।
কাউন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ও চেয়ারম্যান প্রার্থী আক্তার হোসেন কবিরাজ একটি কল রেকর্ড হাতে এসেছে, সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, প্রশাসনের সহযোগিতায় ৫ই আগস্টের ছাত্র হত্যা মামলার একাধিক আসামি কাউন্দিয়া ইউনিয়নে বসবাস করছে ।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ফারুক হোসেন বলেন, "আওয়ামী লীগের সময়ে কে আওয়ামী লীগ করেনি? সবাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে চলেছে, আমিও চলেছি। এতে সমস্যা কোথায়?
আক্তার কবিরাজ আমার দুলাভাই।" তবে তার বিরুদ্ধে উঠা হত্যা মামলা সহ অন্যান্য সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ব্যাপারে তিনি আর কোনো বিস্তার মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদ- প্রার্থী আক্তার হোসেন কবিরাজ বলেন আমি ফারুকে চিনি শশুর বাড়ীর দুঃসম্পর্কে আত্মীয় হিসেবে তবে ফারুকের আওয়ামী দলিয় কার্যকলাপ সম্পর্কে জানতে চাইলে এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে তিনি তড়িঘড়ি করে ফোন কেটে দেন।
বিষয়টি নিয়ে কাউন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুর রহিম বলেন,
যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।