দুর্যোগের খাদ্যভাণ্ডারই অপূর্ণ সক্ষমতায়

আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশালঃ 

দুর্যোগের সময় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বরিশালে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল আধুনিক চাল সংরক্ষণাগার (সাইলো)। কিন্তু উদ্বোধনের দেড় বছরেরও বেশি সময় পরও প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যায়নি। নদীর নাব্যতা সংকট, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং অর্থ বরাদ্দের সীমাবদ্ধতায় কোটি টাকার এই স্থাপনা এখনো প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ।

বরিশাল নগরের ৩ নম্বর গোডাউন এলাকায় কীর্তনখোলা নদীর তীরে প্রায় সাত একর জমির ওপর নির্মিত পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার সাইলোটি দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য নির্মাণ করা হয়। তবে বাস্তবে ১৬টি সংরক্ষণ বিনের মধ্যে বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে মাত্র একটি। সদর গুদাম থেকে সীমিত পরিমাণ চাল এনে সংরক্ষণ করা হলেও নদীপথে সরাসরি চাল আনা-নেওয়ার মূল কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার না হওয়ায় সাইলোর কিছু যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগে কনভেয়ার বেল্টের মূল্যবান বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনাও ঘটেছে। কোটি টাকার সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

সাইলো সুপারিনটেনডেন্ট রাকেশ বিশ্বাস বলেন, নদীপথে চাল পরিবহন চালু করতে কীর্তনখোলা নদীতে ড্রেজিং জরুরি। জেটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও নাব্যতা সংকটের কারণে বড় কার্গো জাহাজ ভিড়তে পারছে না। বর্তমানে মাত্র ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে সাইলোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য ১৫ জন আনসার সদস্য চাওয়া হলেও এখনো তা মেলেনি। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিচালন ব্যয়ের বরাদ্দও অপর্যাপ্ত।

বরিশাল নৌবন্দরের কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ড্রেজিংয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে এখনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। চুক্তি ছাড়া কাজ শুরু করা সম্ভব নয়।

আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক নকীব সাদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ সব প্রস্তুতি শেষ হলে সাইলোর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত ড্রেজিং সম্পন্ন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, নিরাপত্তা জোরদার এবং পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত না হলে ৩২ কোটি টাকার এই আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার দীর্ঘদিন অপূর্ণ সক্ষমতায় পড়ে থাকবে। এতে দুর্যোগকালে খাদ্য মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার যে উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।