স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আলোচনায় নজরুল ইসলাম নোমান

তারেক হোসেন অনিক : 

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন ঘিরে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় একাধিক নাম সামনে এলেও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম নোমানকে ঘিরে তৃণমূলের একটি অংশের আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা, মহানগর পর্যায়ে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার অভিজ্ঞতাকে নোমানের অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখছেন তার সমর্থকরা।

তবে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে কারা আসবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শেষ পর্যন্ত দলীয় নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ছাত্র রাজনীতি থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে

রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ছাত্র রাজনীতিতে নিজের সাংগঠনিক অবস্থান তৈরি করেন নজরুল ইসলাম নোমান। পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এরপর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় মহানগর পর্যায়ে সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকার কারণে বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি তার অনুসারীদের।

নোমানের ভাষ্য, ছাত্রদলে থাকা সময় থেকেই তিনি রাজপথের বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্ব পাওয়ার পরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।

আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন সমর্থকরা

নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নোমান বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার হতে হয়েছে এবং কারাবরণ করতে হয়েছে।

তার দাবি, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে তাকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ওই সময় তাকে এবং কয়েকজন নেতাকর্মীকে ঘিরে অস্ত্র, গুলি ও বোমা উদ্ধারের যে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে করা হয়েছিল, সেটিকে তিনি ভিত্তিহীন ও সাজানো ঘটনা হিসেবে দাবি করেন।

নোমান বলেন, “প্রত্যেকটি আন্দোলনে আমি সামনে থেকে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে মাঠে থাকার চেষ্টা করেছি। এ কারণে নানা ধরনের নিপীড়ন ও মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।”

তার এসব বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন।

পদ নয়, সাংগঠনিক দায়িত্বই অগ্রাধিকার—নোমান

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোন পদে প্রার্থী হতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম নোমান বলেন, তার চেয়ে জুনিয়র কাউকে সভাপতি করা হলে তিনি সভাপতি পদে এবং তার চেয়ে সিনিয়র কাউকে সভাপতি করা হলে সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী।

তবে পদ পাওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্যের কথা জানিয়েছেন তিনি।

নোমান বলেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংগঠনের প্রয়োজনে যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিই তার কাছে চূড়ান্ত। দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান।

মাদক নিয়ন্ত্রণ ও জনসম্পৃক্ততায় গুরুত্ব

রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করার কথাও জানিয়েছেন নোমান।

তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করা, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখা।

নোমানের ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা বলছেন, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্ব শুধু মিছিল-মিটিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সাধারণ মানুষের সমস্যার পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক বিভিন্ন সংকটে কার্যকর ভূমিকা রাখাও এখন নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নোমান দায়িত্ব পেলে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেবেন বলে তারা আশা করছেন।

তৃণমূলের প্রত্যাশা কতটা প্রতিফলিত হবে?

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পুনর্গঠন নিয়ে তৃণমূলের প্রত্যাশা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা—সবকিছু মিলিয়ে সম্ভাব্য নেতৃত্বের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

নজরুল ইসলাম নোমানের সমর্থকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় তাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে।

তবে শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের প্রত্যাশা, সাংগঠনিক মূল্যায়ন এবং দলীয় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত—এই তিনটির সমন্বয়েই স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।

এখন প্রশ্ন একটাই—দীর্ঘদিনের মাঠের কর্মী নজরুল ইসলাম নোমান কি এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জায়গা করে নিতে পারবেন? উত্তর মিলবে সংগঠনের পরবর্তী কমিটি ঘোষণার মধ্যেই।