প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬
সময়: ১১:৩৪ এএম
গরমে বিদ্যুৎহীন বরিশাল শিশু-বৃদ্ধের কষ্ট চরমে
আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশালঃ
তীব্র দাবদাহের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বরিশাল নগরীর জনজীবন। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু, বয়স্ক ও শিক্ষার্থীরা। ব্যাহত হচ্ছে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অফিস-আদালত ও ব্যবসা-বাণিজ্য।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ধীরগতি নেমে এসেছে। হাজিরা লেখা, নথিপত্র প্রস্তুত ও ড্রাফটের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরাও।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতেও একই চিত্র। দিনে ও রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। গভীর রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমাতেও পারছেন না অনেকে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অসহনীয় গরমে অনেককে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে।
বরিশাল ওজোপাডিকো সূত্র জানায়, বর্তমানে অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট। ২০ মেগাওয়াট ঘাটতি নিয়েই বরিশাল নগরসহ ঝালকাঠি ও নলছিটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে।
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মজলু কুমার স্বর্ণকার বলেন, লোডশেডিং পরিস্থিতির সমাধান কবে হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য দ্রুত চেষ্টা চলছে।
বরিশাল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তাঁর আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎও পাওয়া যাচ্ছে না। জেনারেশনে ঘাটতির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কক্সবাজারের এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার ঘটনায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। বিশেষ করে গভীর রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।
বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। দিনের বেলায় অফিসপাড়া এবং রাতে বাণিজ্যিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিদ্যুৎনির্ভর প্রতিষ্ঠান ও দোকানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিং মোকাবিলায় নগরীর বিভিন্ন বাজারে চার্জার ফ্যান ও আইপিএস কেনার ভিড়ও বেড়েছে।
এদিকে ভয়াবহ লোডশেডিং বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে মঙ্গলবার বরিশাল নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বর থেকে মিছিলটি বের হয়ে পরে সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ বরিশাল জেলা সমন্বয়ক ডা. মনিষা চক্রবর্ত্তী। তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে লোডশেডিং বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।