২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান, অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় তুলে নিয়ে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বাংলাদেশ। ডারউইনে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে টাইগাররা।

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গিয়ে এমন সাফল্য বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেট উপহার দেয় সফরকারীরা। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—সব বিভাগেই আধিপত্য বিস্তার করে স্বাগতিকদের চাপে রাখে বাংলাদেশ।


চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যালেক্স ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন। দিনের শুরুতেই ক্যারির উইকেট নেওয়ার সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের বলে ক্যাচ দিয়েও জীবন পান এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।

তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ক্যারি। মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে ৩০ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর একে একে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। বিউ ওয়েবস্টার ৫ রান করে বোল্ড হন। অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও মিরাজের শিকারে পরিণত হন।


এক প্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন ক্যামেরন গ্রিন। তবে শেষ পর্যন্ত হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় তাকেও। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস ২৮৪ রানে থেমে গেলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।

জবাবে শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সেই চাপ কাটিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন মুমিনুল হক।

 ১৪তম ওভারে ওয়েবস্টারের বলে দৃষ্টিনন্দন এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন তিনি।


ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য গর্বের মুহূর্ত। সমর্থকদের বিশ্বাস এবং দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই এমন সাফল্য এসেছে।

ডারউইনের এই জয় শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, বরং বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের সক্ষমতার এক উজ্জ্বল প্রমাণ। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এই অর্জন।