প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
সময়: ০৯:২৩ পিএম
কাউনিয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
কাউনিয়া(রংপুর)প্রতিনিধি :
রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রংপুরের কাউনিয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে এ সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাউনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংকন পাল। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা মৎস্য দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মিনারা হাফিজা ফেরদৌস।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ আর এম আল মামুন, উপজেলা প্রকৌশলী ইন্তাজুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা ইয়াসমিন, আইসিটি কর্মকর্তা মৃত্যুঞ্জয়, ইসলামিক আন্দোলন বাংলাদেশ কাউনিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব ইদ্রিস আলী এবং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের ক্ষেত্র সহকারী আশরাফুল ইসলামসহ অন্যান্য অতিথি।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, পুষ্টি ও কর্মসংস্থানে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে মৎস্য সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণেও সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।
তারা আরও বলেন, অপরিকল্পিতভাবে জলাশয় ভরাট, পানিদূষণ, অবৈধ জাল ও ক্ষতিকর উপায়ে মাছ শিকার এবং প্রজনন মৌসুমে মা মাছ নিধন মৎস্য সম্পদের জন্য বড় হুমকি। এসব অপতৎপরতা বন্ধে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, মৎস্যজীবী ও সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে মাছ চাষে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ এবং মৎস্যজীবীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। বক্তারা আরো বলেন, মৎস্য উৎপাদনে দেশের অর্জন ধরে রাখতে হলে উৎপাদনের পাশাপাশি মাছের গুণগত মান, নিরাপদ খাদ্য, জলাশয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির প্রসার ঘটাতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জাতীয় মৎস্য পক্ষের মাধ্যমে মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।