প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬
সময়: ০৫:২৫ পিএম
সংযোগ সড়ক না থাকায় দিঘীরপাড়ে ৫০ পরিবারের দুর্ভোগ, জরুরি রোগী নিতে ভোগান্তি
তৌহিদুর রহমান, ঝিনাইগাতী সংবাদদাতা:-
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে সংযোগ সড়ক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রায় ৫০ পরিবারের দেড় শতাধিক মানুষ। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, প্রসূতি নারী ও মৃত ব্যক্তির মরদেহ পরিবহনের সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। দ্রুত একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল রাত আনুমানিক ১টার দিকে দিঘীরপাড় গ্রামের জনাব সুরুজ ঝিনাইগাতী সদর হাসপাতালে মারা যান। পরে তাঁর মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার সময় সংযোগ সড়ক না থাকায় স্বজনদের কাদা যুক্ত পথ পাড়ি দিতে হয়। এ সময় তাঁদের নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, যুগের পর যুগ ধরে যোগাযোগব্যবস্থার এই সংকট মোকাবিলা করে আসছেন তারা। গ্রামের ভেতরে যানবাহন চলাচলের উপযোগী সংযোগ সড়ক না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে বাড়ির কাছাকাছি অ্যাম্বুলেন্স বা অন্যান্য যানবাহন পৌঁছাতে পারে না। ফলে রোগী কিংবা প্রসূতি নারীকে দীর্ঘ পথ বহন করে মূল সড়কে নিতে হয়। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হয়, অন্যদিকে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতির আশঙ্কাও থাকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। ফলে বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগে আটকে আছে দিঘীরপাড়ের বাসিন্দারা।
এলাকাবাসী জানান, দিঘীরপাড়ের বসতবাড়ির দক্ষিণ দিকে আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ গজ দূরে একটি পাকা সড়ক রয়েছে। উত্তরে রয়েছে সরকারি রাস্তার হাল এবং প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ গজ দূরে মহারশী নদীর তীরবর্তী একটি কাঁচা রাস্তা। এসব সড়কের যেকোনো একটির সঙ্গে দিঘীরপাড়ের বসতিপূর্ণ এলাকার সংযোগ স্থাপন করা হলে সহজেই যাতায়াতের ব্যবস্থা করা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রায় ৫০ পরিবারের দেড় শতাধিক মানুষের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে সম্ভাব্য সংযোগপথ নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করে সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসী শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগে দিঘীরপাড়ে একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে জরুরি রোগী ও প্রসূতি নারীদের হাসপাতালে নেওয়া সহজ হবে, মরদেহ পরিবহনে দুর্ভোগ কমবে এবং দীর্ঘদিনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দূর হবে।