প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
সময়: ১২:৫৯ পিএম
রংপুরের চার হত্যা: তদন্তে আসামির শার্ট ঘিরে নতুন প্রশ্ন
রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির একজনের পরা শার্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার গায়েও একই ধরনের শার্ট দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, একই ধরনের শার্ট একাধিক ব্যক্তি পরতেই পারেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাঁদের বাড়িও মাছুয়াপাড়া এলাকায়। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর তাঁরা ওই ভবনে বসে ইয়াবা সেবন করেন।
শার্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা
মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুরভিত্তিক কয়েকটি ফেসবুক পেজের লাইভ ভিডিওতে মাস্ক পরা এক ব্যক্তিকে একই ধরনের শার্ট পরে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায়। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি রংপুর মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টিকে কাকতালীয় উল্লেখ করে বলেন, একই ধরনের শার্ট আলাদা আলাদা মানুষ পরতেই পারেন।
পুলিশের দাবি, হত্যার কথা স্বীকার করেছেন দুই আসামি
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে ছিলেন। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশ কমিশনার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে সীমান্ত নামের এক ব্যক্তির বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করেন।
পরে রাতের শেষ দিকে তাঁরা দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্তে এ পর্যন্ত যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট। পুলিশের ভালো কাজের প্রশংসা এবং নেতিবাচক কাজের সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের ওপর আস্থা রাখা যেতে পারে।
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাঁরা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাঁদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত শার্টের বিষয়টি নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ওই শার্টের মিলের বিষয়টি নিছক কাকতালীয় কি না, নাকি এর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে—তা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।