ব্রাজিলের প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ ফিফার কাছে আবেদন করবে বাফুফে

ব্রাজিলের ফুটবল মানেই ছন্দ, সৌন্দর্য আর শৈল্পিকতার মিশেল। পেলে, রোনালদো, রোনালদিনহোদের নান্দনিক ফুটবল দেখে বাংলাদেশের মানুষের একটি বড় অংশ ব্রাজিলের সমর্থকে পরিণত হয়েছে। সেই ব্রাজিলের তারকা ফুটবলারদের এবার ঢাকার মাঠে দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে আগামী ৬ অক্টোবর জাতীয় স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে বাংলাদেশ।

রোববার ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসে। এরপর তারা জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন করে। পাশাপাশি কয়েকটি আবাসিক হোটেলও ঘুরে দেখেন তারা। মাঠের মান ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল জোন এবং খেলোয়াড়দের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের নিরাপত্তাসহ কয়েকটি বিষয়ে উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

দুই স্টেডিয়াম পরিদর্শনের পর ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ব্রাজিলের পক্ষ থেকে ৫ ও ৬ অক্টোবর ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে ৬ অক্টোবর ম্যাচটি চূড়ান্ত হয়েছে—এমন খবর সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বাফুফে সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সভাপতি ফিফার সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নেবেন, যাতে ব্রাজিল ম্যাচটাও খেলতে পারি এবং আসিয়ান কাপও খেলতে পারি।’

ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফিফা আসিয়ান কাপ। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এই টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলার পর স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী সেই ম্যাচটি হতে পারে ৩ অক্টোবর।

এদিকে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার জন্য আসিয়ান কাপ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ভারত। তাদের জায়গায় টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। ফলে ফিফার আমন্ত্রণে পাওয়া টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোও বাফুফের জন্য সহজ নয়। আবার পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের প্রস্তাবও হাতছাড়া করতে চায় না বাংলাদেশ।

এই পরিস্থিতিতে সমাধানের পথ খুঁজছে বাফুফে। স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি এক দিন এগিয়ে ২ অক্টোবর আয়োজন করা যায় কি না, অথবা ম্যাচটি না খেলেই দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া যায় কি না—এ বিষয়ে ফিফার কাছে আবেদন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেটি সম্ভব হলে ২ অক্টোবর ম্যাচ খেলে রাতেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হতে পারবে বাংলাদেশ। এতে ৬ অক্টোবর ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে।

বড় বহর নিয়ে আসতে চায় ব্রাজিল

বাংলাদেশে বড় বহর নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে ব্রাজিলের। জানা গেছে, প্রায় ৯০ সদস্যের কন্টিনজেন্ট নিয়ে ঢাকায় আসতে চায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কলকাতা থেকে ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে দুবাই পর্যন্ত তাদের জন্য চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে হবে বাফুফেকে। এর সঙ্গে থাকবে আবাসন, নিরাপত্তা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়।

সব মিলিয়ে ম্যাচ আয়োজনের জন্য কয়েক কোটি টাকা খরচ হতে পারে। এই ব্যয় এককভাবে বহন করা বাফুফের জন্য কঠিন। তাই সরকারের সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ফুটবল ফেডারেশন।

বাফুফে সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন বলেন, ‘ভালো কোনো উদ্যোগের জন্য অর্থ তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের সভাপতি নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেবেন। ক্রীড়ামন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা নেওয়া হবে। এ রকম ম্যাচ সরকারের সহায়তা নিয়েই করতে হবে।’

সব হিসাব-নিকাশ ও ফিফার অনুমোদন মিললে অক্টোবরের শুরুতেই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করতে পারে বড় এক ফুটবল উৎসব—জাতীয় স্টেডিয়ামে একদিকে বাংলাদেশের হামজা চৌধুরী, অন্যদিকে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়াদের মতো বিশ্বতারকা।