প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
সময়: ০৬:৪৪ পিএম
লোডশেডিং নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানা: ‘টুকু আসে, টুকু যায়’
জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারের সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের বিষয়ে মানুষ বলে, দুষ্টু লোকে বলে, ভালো লোকে বলে না—টুকু আসে, টুকু যায়। এ আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।’
জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের জন্য মানুষ হাহাকার করছে এবং অনেক এলাকায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ নির্বাচনের সময় সরকার ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
রুমিন ফারহানা বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০-এর বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন। এ অবস্থায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের প্রসঙ্গ তুলে স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য বলেন, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা ছিল অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যঙ্গ করেন অথবা কথার কৌশলে বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাজারদরের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমানে বাজারে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দফায় ডিমের দাম বেড়েছে। চালের দামও বেড়েছে, বিশেষ করে মিনিকেট চালের দাম নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে। বাজারে গিয়ে মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে টিসিবির পণ্য নেওয়ার জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইনও দেখা যাচ্ছে বলে সংসদে উল্লেখ করেন তিনি।