প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
সময়: ১২:৩১ এএম
রাত পোহালেই মেয়ের বিয়ে, তার আগেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মায়ের মৃত্যু
মোঃ মাহমুদুল হাসান বাবু , পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
মেয়ের বিয়ের জন্য বাড়িতে তখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। আত্মীয়স্বজন ও মেহমানদের আনাগোনা, বাড়ি সাজানোর কাজ, রান্নাবান্না সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজ। বরযাত্রীদের আপ্যায়নের জন্য জবাই করা হয়েছিল গরুও। কিন্তু বিয়ের আগের রাতেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বিদ্যুতের তার সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন কনের মা রসেনা বেগম (৫০)। মুহূর্তেই বিয়েবাড়ির আনন্দ পরিণত হয় শোকে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের ভান্ডারু গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রসেনা বেগম ওই গ্রামের ইলিয়াস প্রামাণিকের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার রসেনা বেগমের মেয়ে ইছিরন আক্তারের (১৮) বিয়ে হওয়ার কথা ছিল হাড়িভাসা ইউনিয়নের সাহেব বাজার এলাকার এক যুবকের সঙ্গে। এ উপলক্ষে বুধবার রাতেই বাড়িতে বিয়ের বেশির ভাগ আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছিল। বরযাত্রী ও অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য গরু জবাই করা হয়। বাড়িতে ছিলেন আত্মীয়স্বজন ও মেহমানরাও।
বিয়ের প্রস্তুতির কাজের একপর্যায়ে বাড়িতে পড়ে থাকা একটি বৈদ্যুতিক তার সরাতে যান রসেনা বেগম। বাম হাত দিয়ে তারটি সরানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রসেনা বেগমের আকস্মিক মৃত্যুতে বিয়ের আয়োজন থেমে যায়। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। আনন্দের বদলে নেমে আসে শোকের আবহ। পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। আগামী রোববার বিয়েটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
নিহতের ভাগিনা সাইফুল ইসলাম বলেন, বাড়ির সবাই বিয়ের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এর মধ্যেই বাড়ির কাজ করার সময় আমার ফুফু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। বিয়েটা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। আগামী রোববার হতে পারে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াজুর ইসলাম বলেন, বিয়ের কারণে বাড়িতে অনেক মেহমান ছিলেন। গরুর মাংস কাটার কাজও প্রায় শেষের দিকে ছিল। তখনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন রসেনা বেগম। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর থানার এসআই তপন কুমার অধিকারী বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল ও তদন্ত শেষে রাতেই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।