প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
সময়: ০৩:৫৫ পিএম
পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করে প্রেসক্রিপশন, অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে অন্তঃসত্ত্বার সন্তান মারা যাওয়ার অভিযোগ
মোঃ মাহমুদুল হাসান বাবু, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল বাজারে পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করা রোকসানা আক্তারের বিরুদ্ধে চিকিৎসক না হয়েও রোগীদের প্রেসক্রিপশন লিখে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে সাত মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ দেওয়ার পর তাঁর গর্ভের সন্তান মারা গেছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সরেজমিনে জগদল বাজারের ওই ফার্মেসিতে গিয়ে রোকসানা আক্তারের সঙ্গে কথা হলে তিনি নিজেই রোগীদের প্রেসক্রিপশন লেখার বিষয়টি স্বীকার করেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, ওষুধ লেখার অনুমতি রয়েছে তাঁর।
জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট জগদল বাজারের মাতৃসেবা ফার্মেসী গিয়ে রোকসানা আক্তার প্রেসক্রিপশন লিখেন একই এলাকার মিজানুরের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শারমিন আক্তারকে।
পরিবারের অভিযোগ, সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী অসুস্থ হয়ে রোকসানা আক্তারের কাছে গেলে তিনি অ্যান্টিবায়োটিকসহ কয়েক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ লিখে দেন। পরে ওই নারীর গর্ভের সন্তান মারা যায়।
স্বামী মিজানুর রহমানের দাবি, চিকিৎসক না হয়েও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা অন্তঃসত্ত্বা নারীকে এভাবে ওষুধ দেওয়ার কারণেই তাঁর গর্ভের সন্তানটির মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রোগীদের প্রেসক্রিপশন দেওয়া ও অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ বিক্রির বিষয়টি নিয়মিতভাবে তদারকি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গর্ভবতী রোগীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল হক বলেন, রোগীটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসক না হয়ে এভাবে প্রেসক্রিপশন করে ওষুধ দেওয়া ঠিক হয়নি। প্রশাসনের উচিত এ ধরনের সব ওষুধের দোকানে বিশেষ নজরদারি রাখা।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসক না হলে এ ধরনের ওষুধ লেখার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।