উদ্ধার অভিযানে বিদেশি সহায়তা নিচ্ছে না নেপাল

আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে আপাতত কোনো বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সহায়তা নিতে চাইছে না নেপাল। শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা বাহিনীই বর্তমানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুওয়াসহ নেপালের কয়েকটি এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও অবকাঠামো। বন্যায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৫০০-তে পৌঁছেছে এবং এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, নিজেদের নয়জন নাগরিক নিখোঁজ থাকায় দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যে নেপালে একটি উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। দেশটি আরও ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে কাঠমান্ডু জানিয়েছে, আপাতত বিদেশি উদ্ধারকারী দল গ্রহণের পরিকল্পনা নেই।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী বলেন, বিদেশি সহায়তার প্রস্তাব আসা স্বাভাবিক। তবে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সক্ষম হওয়ায় এই মুহূর্তে এ ধরনের সহায়তার প্রয়োজন নেই।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর অনুমতি চেয়েছে।

নেপালের সাবেক জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত দিনেশ ভট্টরাই মনে করেন, চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুওয়া জেলার স্পর্শকাতর ভৌগোলিক অবস্থান বিদেশি উদ্ধারকারী দল গ্রহণে সরকারের অনীহার একটি কারণ হতে পারে। তবে ছেত্রী এ ধারণা নাকচ করে বলেছেন, সিদ্ধান্তটির সঙ্গে চীনের কোনো স্পর্শকাতরতার সম্পর্ক নেই।

এদিকে উদ্ধার অভিযান থেকে বিদেশি দলকে দূরে রাখলেও আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে নেপাল। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দেশি-বিদেশি তহবিল চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ছেত্রী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে একাধিক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হবে। তবে এই মুহূর্তে নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীই কার্যকরভাবে উদ্ধার অভিযান চালাতে সক্ষম।