রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ মালয়েশিয়ার প্রথম ধাপে ১,৫০০ জন

মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করেছে দেশটির সরকার। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মালয়েশিয়া সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে মিয়ানমারের সামরিক সরকার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।


মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে মিয়ানমারের দুটি নৌযান ও একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহার করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৪ হাজারের বেশি মানুষকে শরণার্থী নিবন্ধন নথি (ডিপিপি) কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, মোট ৫ হাজার মানুষ স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের আওতায় যাবেন।


মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, আগস্টের মাঝামাঝি দেশটির আটককেন্দ্রগুলোতে মিয়ানমারের ১০ হাজার ৩৮৮ জন নাগরিক ছিলেন। তবে তাদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, নাগরিকত্ব, অভিবাসন অবস্থা, আশ্রয়ের আবেদন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। এ যাচাই প্রক্রিয়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা।


নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ


মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, প্রত্যাবাসনের পর কোনো শরণার্থীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকলে তাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না। দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল বলেন, মানবিক বিবেচনায় জীবন হুমকির মুখে থাকা কোনো শরণার্থীকে মিয়ানমারে পাঠানো হবে না।


তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, মিয়ানমারে এখনো রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সংস্থাটির দাবি, দেশটির সামরিক বাহিনী এখনো যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।


দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে মালয়েশিয়া। যদিও দেশটি ১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী কনভেনশনের সদস্য নয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীদের স্বীকৃতিও দেয় না। এরপরও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ায় অন্যতম বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠীর বসবাস।


জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গার সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যান। বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার নয় বছর পূর্ণ হয়েছে।