কাভান সুলিভানের দুর্দান্ত গোলে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের জয়
১৬ বছর বয়সেই এমএলএসে রেকর্ডের পাতায় তরুণ প্রতিভা
মাত্র ১৬ বছর বয়সেই মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন কাভান সুলিভান। দুর্দান্ত এক গোল করে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নকে নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই তরুণ প্রতিভা। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এখন জোরালো হচ্ছে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার আলোচনা।
রোববার স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড স্টেডিয়ামে একক নৈপুণ্যে গোলটি করেন সুলিভান। প্রতিপক্ষের একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান তিনি। টানা দুই ম্যাচে এটি তার দ্বিতীয় গোল।
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত সুলিভানের গোল অবদান ১০টি—তিন গোল ও সাত অ্যাসিস্ট। এর মাধ্যমে ১৬ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল অবদানের রেকর্ডে ফ্রেডি আদুর পাশে বসেছেন তিনি।
শুধু তাই নয়, টানা চার ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট করে অনূর্ধ্ব-১৮ খেলোয়াড়দের মধ্যে দীর্ঘতম গোল-অবদানের ধারাতেও জায়গা করে নিয়েছেন সুলিভান। এই কীর্তিতে তার সঙ্গে আছেন ২০২১ সালে রিকার্ডো পেপি ও ২০১৩ সালে দিয়েগো ফাগুন্দেজ।
সুলিভানের এমন পারফরম্যান্সে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের অপরাজিত থাকার ধারাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত ম্যাচে। তবে দলের জয়ের চেয়েও ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ১৬ বছর বয়সী এই তরুণ।
দ্রুত উত্থানের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। আগামী মাসের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ২০৩০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র। পেরু, চিলি, মেক্সিকো ও কানাডার বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোর দলে সুলিভান সুযোগ পান কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তবে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখনই খুব বেশি ভাবছেন না সুলিভান। তার মনোযোগ আপাতত দলকে জেতানো এবং নিজের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখায়।
সুলিভান বলেন, ‘জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমি খুব একটা ভাবছি না। তবে আমরা ম্যাচ জিতছি এবং আমি দলের জন্য অবদান রাখতে পারছি—এতে আমি খুশি। গোল ও অ্যাসিস্ট আসছে। আমি শুধু এই ছন্দটা ধরে রাখতে চাই।’
এভাবেই বয়সকে পেছনে ফেলে একের পর এক রেকর্ড গড়ছেন সুলিভান। এখন তার সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় মঞ্চ—যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের জার্সি।