খেলার মাঠের সংকটে থাকা নগরবাসীর জন্য নতুন আশার খবর; ২০টি স্থান চূড়ান্ত, সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় বিসিসি

আবু জাফর বিশ্বাস,  বরিশালঃ

খেলার মাঠের সংকটে থাকা বরিশাল নগরে স্বস্তির উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। নগরের ৩০টি ওয়ার্ডে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে ২০টি উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরি ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে মাঠ তৈরির জন্য সম্ভাব্য স্থানগুলোর প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করেছে বিসিসি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে এসব মাঠ সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

বিসিসির সম্পত্তি শাখা সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে নগরের ৩০টি ওয়ার্ডের জন্য ২০টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পশ্চিম পাশে প্রায় ৬৯ শতাংশ খাসজমি রয়েছে। সম্প্রতি ওই জমি দখল করে ভরাটের অভিযোগ ওঠে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।

গত ৭ আগস্ট ‘বরিশালে সরকারি পুকুর ভরাট’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর ওই খাসজমিতে ৪ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য একটি উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শনিবার দুপুরে বিসিসির প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন ও জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার প্রস্তাবিত মাঠের স্থানটি পরিদর্শন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, দখলদারদের মালিকানা বাতিলের জন্য আদালতে মামলা করা হয়েছে। জনগণের জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরিতে জেলা প্রশাসন বিসিসিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

যেসব স্থানে মাঠ

বিসিসির সম্পত্তি শাখার প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছে—১ নম্বর ওয়ার্ডের বিসিক মাঠ, ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানিক মিয়া স্কুল মাঠ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউনিয়া হাউজিং মাঠ, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পশ্চিম পাশের মাঠ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ জিয়াউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এ করিম আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মমতাজ মহিউদ্দিনোছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মাঠ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একে স্কুল মাঠ, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্ল্যানেট ওয়ার্ল্ড শিশু পার্কের পূর্ব পাশের মাঠ এবং ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাপ্টিস্ট মিশন বালক বিদ্যালয় মাঠ।
এ ছাড়া ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পানি উন্নয়ন বোর্ড মাঠ, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের পলিটেকনিক কলেজের পেছনের মাঠ, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নব আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের পরেশ সাগর মাঠ ও হালিমা খাতুন বালিকা বিদ্যালয় মাঠ, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএম স্কুল মাঠ, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের অমৃত লাল দে কলেজ মাঠ, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ প্রাথমিক স্কুল মাঠ, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ মাঠ এবং ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের মহানগর কলেজ-সংলগ্ন মাঠ তালিকায় রয়েছে।

তবে প্রস্তাবিত তালিকায় ২ নম্বর ওয়ার্ডের নাম দুবার উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ২০টি মাঠের তালিকায় কোনো একটি ওয়ার্ডের নাম বাদ পড়েছে কি না, তা যাচাই করে সংশোধন করা প্রয়োজন।

বিসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. শাকিল হোসেন বলেন, ৩০টি ওয়ার্ডের জন্য ২০টি মাঠ তৈরির স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব স্থানে অবৈধ দখলদার থাকলে দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর মাঠগুলো দিন-রাত খেলাধুলার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হবে।

বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার বলেন, প্রস্তাবিত মাঠগুলো সংস্কার এবং খেলাধুলার প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পাঠানো হবে। বরাদ্দ পাওয়ার পর মাঠ তৈরির কার্যক্রম শুরু হবে।

বিসিসির প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, নগরের প্রতিটি এলাকায় উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরি ও সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৩০টি ওয়ার্ডের জন্য ২০টি মাঠ এমনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে সড়কের দুই পাশের একাধিক ওয়ার্ডের শিশু-কিশোরেরা মাঠ ব্যবহারের সুযোগ পায়। কাছাকাছি খাসজমি পাওয়া গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠের পরিবর্তে সেখানেই উন্মুক্ত মাঠ তৈরিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।