হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইরানি দ্বীপ লারাকে মার্কিন বাহিনীর হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন এলাকা থেকে একযোগে আঞ্চলিক একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সময় এ হামলা চালানো হয়। ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পাল্টা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত মার্কিন নৌযানগুলো লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিরিকে একাধিক বিস্ফোরণের খবর প্রচার করা হয়েছে। এসব বিস্ফোরণও হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমান ঘাঁটিতেও পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আজিজি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের সংকল্প আবার পরীক্ষা করা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় মূল্য দিতে হবে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হরমুজ প্রণালি অঞ্চলের ইরানি দ্বীপ লারাকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী দুটি ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ওই ব্যবস্থা থেকে হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র-মাইন বহনকারী রকেট ছোড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
আইআরজিসির দাবি, ওই হামলায় কয়েকজন যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। ইরানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হামলাটি ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয়ে থাকতে পারে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি কাঠামোগত চুক্তি হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল নিয়ে বিরোধের জেরে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের বোমা হামলার পাশাপাশি পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ করে। সর্বশেষ লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় দুই দেশের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।