প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সময়: ০৮:১২ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃষকের দাবি
বরিশাল ব্যুরোঃ
‘যে কৃষক দেশকে খাওয়ায়, তার ঘরে খাবারের নিশ্চয়তা কে দেবে?’—এই প্রশ্ন তুলে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করাসহ কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের নেতা আবু জাফর বিশ্বাস।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে তিনি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়, ঋণের চাপ এবং ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।
চিঠিতে আবু জাফর বিশ্বাস বলেন, কৃষকেরা রোদ-বৃষ্টিতে কাজ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে ঋণ নিয়ে ফসল উৎপাদন করেন। সার, বীজ ও কীটনাশকের দামসহ উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ফসল বিক্রির সময় কৃষকেরা সব সময় প্রত্যাশিত দাম পান না। এতে তাঁদের ওপর ঋণের চাপ বাড়ে।
কৃষকের সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে কৃষকদের সরাসরি অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে চিঠিতে তিনি বলেন, ‘ফাইল নয়—মাঠে আসুন। ভাষণ নয়—কৃষকের কথা শুনুন। প্রতিশ্রুতি নয়—অধিকার নিশ্চিত করুন।’
কৃষকের প্রত্যাশা তুলে ধরে আবু জাফর বিশ্বাস বলেন, কৃষকেরা দয়া বা করুণা চান না। তাঁরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম, সম্মান ও অধিকার চান।
চিঠিতে তিনি কয়েকটি দাবির কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে কৃষিপণ্যের ন্যায্য ও লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করা, সার-বীজ-কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের বাজারে অনিয়ম বন্ধ করা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও কৃষি বীমার সুযোগ বাড়ানো এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
এ ছাড়া কৃষকের অংশগ্রহণে কৃষিনীতি প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘কৃষক দিবস’ ঘোষণার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
আবু জাফর বিশ্বাস বলেন, কৃষকের সমস্যা শুধু কৃষকের একার বিষয় নয়। কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রা জড়িত। তাই কৃষকের সমস্যাগুলো নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
খোলা চিঠির শেষে তিনি বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, কৃষি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।’
আবু জাফর বিশ্বাস বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত। সংগঠনটি নিজেদের অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী কৃষক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেয়।