লংমার্চে বাধা এলে ৬ দফা হবে ১ দফা: নাহিদ
ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর—১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে বাধা দেওয়া হলে ছয় দফা দাবি এক দফার আন্দোলনে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শনিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে নতুন করে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার পথ বন্ধ করতেই ১১ দলের এই কর্মসূচি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, লংমার্চে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ছয় দফা দাবি আর ছয় দফায় থাকবে না, তা এক দফার আন্দোলনে পরিণত হবে।
জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সবাইকে দলে দলে এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে হবে।
কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু
শনিবার সকাল ৭টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শাপলা চত্বরে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। পরে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। তাঁরা জোটের দাবিসমূহ, কর্মসূচির লক্ষ্য ও পরবর্তী পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও সমাবেশে অংশ নেন।
নেতাদের বক্তব্য শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চের বহর যাত্রা করার কথা রয়েছে।

ছয় দফা দাবিতে কর্মসূচি
ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য এই লংমার্চের আয়োজন করেছে। জোটের অন্যতম প্রধান দাবি হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন।
এ ছাড়া জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানিয়েছে জোটটি।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিও রয়েছে তাদের ছয় দফার মধ্যে।
জোটের নেতাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বিভিন্ন খাতের সংকট সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
যেসব পথে যাবে লংমার্চ
শাপলা চত্বর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রামের দিকে যাবে লংমার্চের বহর। পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাক স্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মিরসরাই এলাকায় পথসভা করার কর্মসূচি রয়েছে।
পথসভা শেষে লংমার্চের বহর চট্টগ্রাম নগরীর দিকে যাবে। পরে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।
কর্মসূচিকে ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়ছে। লংমার্চকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁরা জনগণের দাবিগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি ছয় দফা বাস্তবায়নে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান।