৬ মাসে সাফল্য ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বর্তমান সরকার, প্রত্যাশা পূরণে নতুন মাইলফলক

এস আই খান:

দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্ষমতার পালাবদল এবং জাতীয় নির্বাচনের পর দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পূর্ণ করল বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল এই পথচলা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানোর মতো নানা সংস্কারমূলক প্রতিশ্রুতি নিয়ে সরকারের এই যাত্রায় ইতোমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, পাশাপাশি সামনে এসে দাঁড়িয়েছে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ।
বিরোধী দলে থেকে আন্দোলন পরিচালনা এবং সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতায় স্পষ্ট ফারাক রয়েছে। নতুন সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ এখন দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গত ছয় মাসের অভিজ্ঞতায় সরকারের সুনির্দিষ্ট সাফল্য যেমন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে, তেমনি অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের জমে থাকা সংকট মোকাবিলায় নিতে হচ্ছে কৌশলগত পদক্ষেপ।

বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপণ্য রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সিন্ডিকেট দমন, সরবরাহ শৃঙ্খলা জোরদার এবং আমদানিনির্ভর পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়তে শুরু করেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে নেওয়া পদক্ষেপগুলো অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


শিল্প উৎপাদন অক্ষুণ্ন রাখা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপচয় রোধ, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি পুনর্বিবেচনা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারে জোর দিয়ে সরকার এই খাতে একটি টেকসই কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।

প্রজাতন্ত্রের কাজে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আনতে নানামুখী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি কাজের মান বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং সরকারি দপ্তরে হয়রানিমুক্ত নাগরিক সেবা দেওয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অপরাধ দমনে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ তৈরি, আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করতে চায় বর্তমান সরকার। দলীয় নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে কঠোর অনুশাসন বজায় রাখার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর জিরো-টলারেন্স বার্তা মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে বাস্তবায়িত হচ্ছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি। বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, শ্রমবাজারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিক সমাধানের লক্ষ্যে জোর তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
ছয় মাসের এই সময়ে সরকার উন্নয়ন ও সুশাসনের এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বাজার স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রেখে সাধারণ মানুষের জীবনে আরও স্বস্তি এনে দেওয়াই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে কীভাবে এই চ্যালেঞ্জগুলো জয় করে জনকল্যাণে স্থায়ী রূপ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সমগ্র দেশ।