রাতের আঁধারে ধলাই নদীতে ‘বালু লুট’ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ

মোঃ শাহাব উদ্দিন আহমেদ শিহাব, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: 

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদী থেকে রাতের আঁধারে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ইজারাবহির্ভূত এলাকা থেকে উত্তোলন করা এসব বালু মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ট্রলি, পিকআপ ও ডায়না গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে চোরাই পথে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বৈধ ইজারাদার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রতিকার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ধলাই নদীর ইজারাদারের পক্ষে বালু মহালের ম্যানেজার হুমায়ুন কবীর।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে হুমায়ুন কবীর উল্লেখ করেন, কমলগঞ্জ পৌরসভার চণ্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। তার অভিযোগ, ধলাই নদীর গোপালনগর মৌজার ‘গোপালনগর’ ও ‘করিমপুর’ নামের দুটি স্থান ইজারার আওতাভুক্ত নয়। অথচ গত প্রায় এক মাস ধরে এসব স্থান থেকে প্রতি রাতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দিনের আলোয় কার্যক্রম অনেকটা আড়ালে থাকলেও রাত নামলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে কথিত বালু উত্তোলনকারী চক্র। ড্রেজারে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে তা বিভিন্ন যানবাহনে বোঝাই করা হয়। পরে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত এসব বালু অন্যত্র নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, ইজারাবহির্ভূত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির কারণে বৈধ ইজারাদার সরাসরি আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে সরকার অনুমোদিত স্থান থেকে বৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করতেও বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে—নদীর নির্দিষ্ট ইজারা এলাকার বাইরে যদি নিয়মিতভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করা হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে এ কার্যক্রম চলল? কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কারা এর পেছনে মদদ দিচ্ছে—এ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

অভিযোগের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ তালুকদার বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। ধলাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বা বেআইনি যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দ্রুতই সংশ্লিষ্ট স্থানে অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের ঘোষিত অভিযান কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং ধলাই নদীর কথিত অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।