কার জমি, কার অনুমতি? ডেফুলিয়ায় বিতর্কিত নির্মাণ বন্ধ

আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরোঃ 

বরিশাল নগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ডেফুলিয়া এলাকায় জমির মালিকানা ও নির্মাণ অনুমোদন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও কাজ বন্ধ রেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জমির কাগজপত্র দেখানোর নির্দেশ দেন।

স্থানীয়দের দাবি, ডেফুলিয়া মৌজার ওই জায়গা খাসজমির অন্তর্ভুক্ত। সেখানে অনুমোদন ছাড়া সীমানাপ্রাচীর ও স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম দাবি করেছেন, রাস্তার পাশের ২৫ শতাংশ জমি তাঁর ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং সেখানে স্টল নির্মাণের উদ্দেশ্যে সীমানাপ্রাচীর দেওয়া হচ্ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জায়গাটির রয়েছে বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব। ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সেখানে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং একটি নিমগাছ রোপণ করেন। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হলেও নিমগাছটি এখনো রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই স্মৃতিবিজড়িত স্থান থেকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ ফুট দূরে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।

শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরটি আর নেই। তবে নিমগাছটি রয়েছে। এর আশপাশে বড় গর্ত খনন করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মাঠের মধ্যে ইট, বালু ও নির্মাণসামগ্রী স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম লিটু বলেন, নগরের সোনা মিয়ার পুল বাজারের পেছনে নাসির মডেল টাউনসংলগ্ন ডেফুলিয়া মৌজায় প্রায় ১৭ একর খাসজমি রয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। ওই জমির একটি অংশে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।

২৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ২০ থেকে ২৫ শতাংশ জায়গায় স্টল নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এতে সেখানে থাকা পুরোনো নিমগাছটিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জমির মালিকানা ও বৈধতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওই স্থানে নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা বা অনুমোদন নিশ্চিত না করেই নির্মাণকাজ চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জমিটি খাসজমি বলে দাবি করেছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জমির কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবিত ২০টি খেলার মাঠের মধ্যে ডেফুলিয়াতেও একটি মাঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্প্রতি বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরীন ডেফুলিয়ার ওই স্থান পরিদর্শন করেন। সেখানে খেলার মাঠ ও আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের সম্ভাবনার কথাও আলোচনা হয়।

বিলকিস জাহান শিরীন বলেন, ডেফুলিয়ায় স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়ার পর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জমির কাগজপত্র ও আইনগত বিষয় যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে সাবেক কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি যে জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছিলেন সেটি খাসজমি নয়, তাঁর ব্যক্তিমালিকানাধীন। সিটি করপোরেশনের কর্মীদের নির্দেশে আপাতত কাজ বন্ধ রেখেছেন। রোববার তিনি জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবেন বলে জানান।

এদিকে জমির প্রকৃত মালিকানা, খাসজমির অবস্থান এবং নির্মাণের বৈধতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে ডেফুলিয়ার বিতর্কিত নির্মাণকাজ।