নজরুলের এমপি পদ: সংসদের চিঠি পেলে ব্যবস্থা নেবে ইসি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ কথা জানান। তিনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে এখনো সংসদ থেকে কোনো চিঠি আসেনি। চিঠি এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ইসি সচিব বলেন, জামায়াতে ইসলামী দলীয় প্যাডে গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের বিষয়টি কমিশনকে জানিয়েছে। তবে শুধু দলের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে ইসিকে জানানোর বিধান রয়েছে।


তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা। পরবর্তী বিষয় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অধীন। সংসদ থেকে চিঠি পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলটি তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়। তবে ইসির কাছে এখনো সংসদ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো রেফারেন্স বা চিঠি পৌঁছায়নি।


এদিকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।


মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় সোমবার গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।


এর আগে জুলাইয়ে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। পরে গাজী নজরুল নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে জানান। এরপর জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক তদন্তের কথা জানিয়ে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।


তবে দল থেকে বহিষ্কারের পর সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে এলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসি।