‘নিপীড়ন কখনো মেনে নেব না’: জাতিসংঘে এরদোয়ান
অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরব না থাকার অঙ্গীকার করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে কষ্ট সহ্য করতে হবে, মূল্যও দিতে হবে; কিন্তু অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা যাবে না এবং নিপীড়ন কখনো মেনে নেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ভাষণে গাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান এরদোয়ান। একই সঙ্গে দ্রুত গাজা পুনর্গঠনের কাজ শুরু করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এরদোয়ান বলেন, গাজার পুনর্গঠনে কোনো সময় নষ্ট করা উচিত নয়। এ জন্য ইসরায়েলের ওপর আরও বেশি চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি। তুরস্ক এক বছর আগে শারম আল-শেখে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। চুক্তিটির বাস্তবায়ন তুরস্ক নজরে রাখবে বলে জানান।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ঠেকানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে বলেও মন্তব্য করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে দমিয়ে রাখার সব প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে।
১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে এখনো যারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
ভাষণের শুরুতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস টানা দুই বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন এরদোয়ান। আব্বাস উপস্থিত না থাকলেও স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে তুরস্ক কথা বলে যাবে বলে জানান তিনি।
গাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, অঞ্চলটি বিশ্বের শিশুদের সবচেয়ে বড় কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। তার দাবি, গত তিন বছরে গাজায় ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
তিনি আরও বলেন, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ফিলিস্তিনিরা এখনো স্বজনদের মরদেহ খুঁজছেন। ইসরায়েলি হামলায় অঙ্গ হারানো শিশুরা কৃত্রিম অঙ্গ ব্যবহার করে স্কুলে ফিরতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এরদোয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকটের কারণে গাজার হাসপাতালগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি জেনারেটর অচল হয়ে আছে। গাজাকে তিনি ‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘের সংস্কারেরও আহ্বান জানান এরদোয়ান। তার মতে, ৮১ বছর আগে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ বর্তমানে তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়েছে।
ভাষণের শেষ পর্যায়ে এরদোয়ান বলেন, তার বক্তব্যে কেউ কেউ অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। তবে অন্যায়ের শিকার মানুষের পক্ষে তুরস্ক কথা বলে যাবে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে কষ্ট সহ্য করতে হবে, মূল্যও দিতে হবে; কিন্তু অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা যাবে না এবং নিপীড়ন কখনো মেনে নেওয়া হবে না।