কুলিয়ারচরে মাদকাসক্ত ছেলের দেওয়া আগুনে পুড়ল মা-বাবার মাথা গোঁজার ঠাঁই

মোঃ মাইন উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকের টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধের জেরে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণের বিরুদ্ধে। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, পোশাক, বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ১৫টি হাঁস ও প্রায় ৪০টি মুরগি পুড়ে গেছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কুলিয়ারচর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বড়খারচর মহল্লায় হাবিব কাউন্সিলরের বাড়ির পাশে আবু বক্করের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তরুণের নাম ফুল মিয়া। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে ফুল মিয়া বাড়ির সামনের একটি দোকানে বাকি সওদা চান। দোকানদার আবুল হোসেন (৬০) বাকি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করার অভিযোগ ওঠে ফুল মিয়ার বিরুদ্ধে। পরে দোকানদারকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে বাবা আবু বক্কর, মা রুবিনা বেগম ও বোনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে ফুল মিয়া তার মা ও বোনকে দা নিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করেন বলে পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের জানান। এ সময় তারা নিরাপত্তার জন্য বাড়ির বাইরে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে ডাকেন। আর সেই সুযোগে ফুল মিয়া ঘরের ভেতরে আগুন ধরিয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দেন।

খবর পেয়ে কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই ঘরের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়। তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকা হাঁস-মুরগিও আগুনে পুড়ে মারা যায় বলে পরিবার জানিয়েছে। আগুনে পড়নের কাপড় ছাড়া ঘরে থাকা প্রায় সবকিছুই পুড়ে গেছে।

কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইলিয়াস ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে আগুনে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পরিবারের সদস্যরা। ফুল মিয়ার মা রুবিনা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, তার ছেলে নিয়মিত মাদক সেবন করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অসংযত আচরণ করেন এবং বিভিন্ন সময় দা নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন। তিনি ছেলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযুক্তের বাবা আবু বক্কর ও ছোট ভাই দিপুও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ফুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। তবে আটক ফুল মিয়া পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরিবারের সদস্যরা তাকে নির্যাতন করতেন এবং কাজ না করা নিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করতেন। এ কারণেই তিনি ঘরে আগুন দিয়েছেন বলে দাবি করেন।

কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, ফুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।