ইত্তিফাকুল উলামা লি ইসলাহিল উম্মাহ এর উদ্যোগে কাউনিয়া ক্বওমি মাদ্রাসার মুহতামিমদের মতবিনিময় সভা

 কাউনিয়া  (রংপুর) প্রতিনিধিঃ 

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায়  বর্তমান প্রেক্ষাপটে ক্বওমি মাদ্রাসা সমূহের বিভিন্ন নৈতিক সমস্যা মোকাবেলায় মাদ্রাসা সমুহকে কিভাবে সুরক্ষিত নিরাপত্তা রাখা যায় এ বিষয়ে মতবিনিময় সভা।উক্ত সভার সভাপতিত্ব করেন হাফেজ মাওলানা মুফতী জামালুদ্দীন সভাপতি, ইত্তিফাকুল উলামা লি ইসলাহিল উম্মাহ কাউনিয়া উপজেলা, মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উক্ত সংগঠনের সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল হারুন এবং আরও উপস্থিত ছিলেন  সংগঠনের সিনিয়র উপদেষ্টা হাফেজ মাওলানা আব্দুল লতিফ ইমাম ও খতিব কাউনিয়া উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদ,দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল সাহেব।আরোও উপস্থিত ছিলেন। বালাপাড়া ইউনিয়নের সভাপতি মাওলানা মোজাম্মেল হক,কুর্শা ইউনিয়ন  সভাপতি হাফেজ মাওলানা আশরাদ,হাফেজ আব্দুল আউয়াল, মুফতী আব্দুর রহমান, হাফেজ আনারুল ইসলাম, হাফেজ আমিনুর,মুফতী মুজাহিদুর রহমান প্রমুখ।গৃহীত সিদ্ধান্তবলি,
‎
‎শিক্ষক/শিক্ষিকাদের নিয়ম-কানুন ও অঙ্গীকারনামা
‎আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই খেদমতের মন মানসিকতা থাকতে হবে থানভী রহ: বলেন এ-র আলামত অন্যস্থান থেকে বেশি  প্রস্তাব আসলে  চলমান খেদমত  ছেড়ে না দেওয়া।
‎জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, চারিত্রিক সনদপত্রের মূল কপি,দুই কপি রঙ্গিন ছবি জমা দেওয়া।
‎শিক্ষাগত যোগ্যতার সমস্ত সার্টিফিকেট জমা দেওয়া।
‎লিবাস-পোশাক ও বাহ্যিক সাজসজ্জা অবশ্যই শরিয়াত ও মাদরাসার কানুনমত হতে হবে। যেমন—গোল পাঞ্জাবি, সাদা গোল টুপি, পাগড়ি , পায়জামা, লুঙ্গি ইত্যাদি।
‎‎প্রত্যেক শিক্ষককে মাসে ০৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) ছুটি প্রদান করা হবে।
‎‎যে সমস্ত শিক্ষক ও শিক্ষিকাগণ তাঁদের মাসিক নির্ধারিত ছুটি কাটাবেন না, তাঁদের জন্য উক্ত নির্ধারিত ছুটির দিনসমূহের জন্য পারিশ্রমিক বাবদ নির্ধারিত বেতনের সমপরিমাণ টাকা প্রদান করা হবে এবং মাদরাসা বন্ধের পর খোলার তারিখে অথবা ব্যক্তিগত ছুটির পর খোলার তারিখে যদি কোনো শিক্ষক/শিক্ষিকা নির্ধারিত সময়ে মাদরাসায় উপস্থিত না হন, তাহলে তাঁর উক্ত ছুটির দিনসমূহের বেতন কর্তন করা হবে।
‎‎মুহতামিম বা কমিটির কারণে শিক্ষক চলে গেলে,এক মাসের বেতন অগ্রিম দিতে হবে।
‎ কোনো ছাত্র বা অভিভাবকের সাথে আর্থিক লেনদেন বা হাদিয়ার আদান-প্রদান করা যাবে না।
‎ ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে শারীরিক খিদমাত নেওয়া থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকতে হবে।।
‎ ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে শালীন, মার্জিত ভাষায় আপনি ও তুমি বলে সম্বোধন করতে হবে। কোনো অবস্থায় অশ্লীল ও অমার্জিত ভাষা ব্যবহার করা যাবে না।
‎একাডেমির ক্লাসের নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট পূর্বে একাডেমিতে প্রবেশ করে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ১০ মিনিট পূর্বে ক্লাসরুমে প্রবেশ করবো এবং ক্লাস শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের পূর্বে ক্লাস ত্যাগ করবো না।
‎নির্ধারিত সময়ের ভিতরেই নির্ধারিত সিলেবাস (সাপ্তাহিক/মাসিক) শেষ করবো, অন্যথায় জবাবদিহি করবো।
‎ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের ভিতরে ব্যক্তিগত কোনো কাজের সাথে সম্পৃক্ত হবো না এবং ক্লাস চলা অবস্থায় ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন অফিসে জমা রাখবো বা বন্ধ রাখবো। পরিচালকের অনুমতি ছাড়া নিজ মোবাইল নম্বর কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবককে দিব না এবং কোনো অভিভাবকের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করবো না।
‎প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত মাসিক এবং বাৎসরিক শিক্ষক প্রশিক্ষণে উপস্থিত থাকবো। অন্যথায় প্রশিক্ষণে অনুপস্থিতির জন্য নির্ধারিত হারে বেতন কর্তন করা হবে।
‎শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত বা অসদাচরণ করবো না। আমার বেত্রাঘাতের কারণে যদি কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়, তাহলে তার সকল ধরনের চিকিৎসা নিজ খরচে করবো।
‎
যদি শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত বা অসদাচরণের জন্য অভিভাবকের সাথে প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রকার মনোমালিন্য হয়ে যায়, তাহলে সমস্যা সমাধান করে স্বেচ্ছায় নিজ কর্মস্থল থেকে সরে যাব। ইহাতে আমি কোনো প্রকার আপত্তি বা তদবির চালাবো না এবং প্রতিষ্ঠানকে কখনও কোনো বিষয়ে মহল্লা বা ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত করবো না।
‎ এ প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত অবস্থায় কোনো  সন্ত্রাসীদের সাথে, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ বা রাষ্ট্রদ্রোহীদের সাথে সম্পৃক্ত হবো না। যদি এসমস্ত কার্যকলাপ প্রমাণিত হয়, তাহলে সাথে সাথেই বিনা নোটিশে চাকরি থেকে বহিষ্কৃত হবো। প্রকাশ থাকে যে, যে-কোনো কারণে এবং যে-কোনো সময়ে বহিষ্কৃত হলে সব ধরনের পাওনা বাজেয়াপ্ত হবে।
‎একাডেমিতে কর্মরত অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নের বিষয় ছাড়া একাডেমির ব্যক্তিগত কোনো বিষয়ের ওপর হস্তক্ষেপ করবো না এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালক ও কর্তৃপক্ষের ওপর কোনো প্রকার নজরদারি/খবরদারি করবো না। কোনো শিক্ষার্থীর বাসায় কোনো অবস্থাতেই যাবো না। এ প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে পরিচালকের অনুমতি ছাড়া কখনও প্রাইভেট পড়াবো না।
‎
ব্যক্তিগত বা বাহিরের কোনো সমস্যা একাডেমির পরিচালক বা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত করবো না এবং একাডেমির পরিচালক বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিপক্ষে কখনও কোথাও কোনো খারাপ মন্তব্য করবো না। যদি প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরোধী কোনো কার্যকলাপের সাথে জড়িত প্রমাণিত হই, তাহলে সাথে সাথেই কর্মস্থল থেকে বহিষ্কৃত হবো।
‎জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মাঝে কর্মস্থল থেকে চলে যেতে পারবো না এবং পুনরায় কর্মস্থল বা পরের বছরের জন্য নিয়ম অনুযায়ী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ নতুনভাবে নবায়ন বা চুক্তিবদ্ধ হবো।
‎
‎ঘটনাক্রমে কর্মস্থল থেকে নির্ধারিত সময়ের পূর্বে, অর্থাৎ চুক্তি হওয়া সময়ের পূর্বে যেতে হলে প্রতিষ্ঠানকে ৩ মাস পূর্বে লিখিতভাবে জানাতে হবে। এ সময়ের পূর্বে প্রতিষ্ঠানকে লিখিত অবগত না করলে সব ধরনের পাওনাদি বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে, এতে আমার কোনো প্রকার আপত্তি থাকবে না।
‎
‎শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভিত্তিক পুরো সপ্তাহের পড়ালেখার মান সম্পর্কে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবারে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে লিখিতভাবে অবগত করবো।