কমলগঞ্জে জমি বিরোধে মামলা, নিরাপত্তাহীনতায় শাহাজাহান বখতের পরিবার

শাহাব উদ্দিন আহমেদ শিহাব, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: 

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বাল্লারপার গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে শাহাজাহান বখত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা, পুলিশ দিয়ে হয়রানি, শারীরিক নির্যাতন এবং অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের প্রভাব ও পুলিশের হয়রানিতে পরিবারটি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী শাহাজাহান বখতের অভিযোগ, একই গ্রামের মৃত তজমুল বখতের ছেলে শাহান বখত, বদরুল বখত, মিজান বখত ও কয়েছ বখতদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও চাপ দিয়ে আসছে।

শাহাজাহান বখত বলেন, সম্প্রতি প্রতিপক্ষ তাদের দখলে থাকা জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই থানাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ ও মামলা দিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তাদের দাবি, গত ১৮ সেপ্টেম্বর একটি মামলার ঘটনায় শাহাজাহান বখতের ছেলে রানা বখতকে আটক করে কমলগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, থানায় নেওয়ার পর কমলগঞ্জ থানার এসআই জিয়াউল হক রানাকে তার কক্ষে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন।

রানার বোন শায়েলা বেগমের দাবি, ভাইকে নির্যাতন না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি থানায় গেলে এসআই জিয়াউল হক তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।

শায়েলা বেগম বলেন,
“আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা ছিল না। ৭ হাজার টাকা ছিল, সেটাই দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ওই টাকা ফেরত দিয়ে রানাকে মৌলভীবাজার কারাগারে পাঠায়।”

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিন রানাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। রানা বখত কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফেরার পরও পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছেন শাহাজাহান বখত।

তার দাবি, জামিনে মুক্তির পর প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি এবং ফের হামলা ও মামলা করার ভয় দেখাচ্ছে। ফলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি থানায় রানা বখতের সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং তার কাছে অর্থ দাবির অভিযোগের সত্যতা কী—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।