প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সময়: ০৪:১৪ পিএম
স্ত্রীর পরামর্শে মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে
. .
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তি পুত্রবধূর নামে লিখে দেওয়ার পর মাকে মারধর, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যাচেষ্টাসহ নগদ টাকা ও স্বর্ণের চেইন নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম (৫৩) আদালতে মামলা করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন—আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের গোদাড়া এলাকার আব্দুর রশিদ সরদারের ছেলে রাসেল রেজা (৩৪) ও তার স্ত্রী অলিমা ইয়াসমিন (৩১)।
ভুক্তভোগী রেহেনা বেগমের অভিযোগ, তার দুই ছেলে ছোট থাকতেই স্বামী আব্দুর রশিদ সরদার জমি দুই ছেলের মধ্যে ভাগ করে দেন। এরপর থেকে তিনি বড় ছেলে রাসেল রেজার বসতবাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। রাসেল সরকারি চাকরি করেন। ২০১৮ সালের দিকে রাসেল বিয়ে করার পর তার নামে থাকা পৈতৃক জমি স্ত্রী অলিমা ইয়াসমিনের নামে লিখে দেন বলে দাবি করেন রেহেনা।
রেহেনা বেগমের অভিযোগ, এরপর থেকেই পুত্রবধূর পরামর্শে রাসেল বিভিন্ন সময় তাকে মারধর ও নির্যাতন করতেন। চলতি বছরের ৭ জুন রাসেল পটুয়াখালী থেকে বাড়িতে আসার পর অলিমা তার বিরুদ্ধে ছেলেকে উসকানি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রেহেনা বলেন, একপর্যায়ে রাসেল তাকে গালিগালাজ করলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল পাশে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় পুত্রবধূ অলিমা ওড়না দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে রাসেল তার গলায় পা দিয়ে চাপ দেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ছেলে ও পুত্রবধূ তাকে ছেড়ে দেন বলে দাবি করেন রেহেনা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে রাসেল ঘরের শোকেসে থাকা ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। একই সঙ্গে তার স্বর্ণের চেইনও নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রেহেনা বেগম বলেন, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
পরে বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলা করার পর রাসেল মোবাইল ফোনে তাকে হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া বাড়িতে গেলে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যার হুমকি পুত্রবধূ অলিমা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন রেহেনা। এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহেনা বেগম