প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সময়: ১১:১৫ এএম
তাজমহলের আদলে সোনারগাঁওয়ে স্থাপনা, প্রতিদিন ভিড় দর্শনার্থীদের
এস এম মিঠু, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সোনারগাঁও উপজেলার পেরাব গ্রামে গড়ে উঠেছে আগ্রার তাজমহলের আদলে নির্মিত ব্যতিক্রমী স্থাপনা—‘বাংলার তাজমহল’। স্থানীয়ভাবে এটি ‘বাংলার দ্বিতীয় তাজমহল’ নামেও পরিচিত। নান্দনিক স্থাপত্য, গম্বুজ ও মিনারসহ এর নির্মাণশৈলী দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে চলেছে।
রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় ছুটির দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা সোনারগাঁওয়ে আসেন। ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর পাশাপাশি বাংলার তাজমহলও তাদের ভ্রমণ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। স্থাপনাটির সামনে ও আশপাশের এলাকায় দর্শনার্থীদের ছবি তুলতে এবং সময় কাটাতে দেখা যায়।
জানা যায়, চলচ্চিত্রকার ও শিল্পপতি আহসান উল্লাহ মনি আগ্রার তাজমহলের আদলে এ স্থাপনাটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ২০০৩ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে এটি উদ্বোধন করা হয়। মূল তাজমহলের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে এখানে গম্বুজ, চারটি মিনারসহ বিভিন্ন নকশা ও স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য রাখা হয়েছে।
প্রায় কয়েক একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই স্থাপনা ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন বিনোদন ও দর্শনীয় স্থাপনা। ফলে দর্শনার্থীদের কাছে এটি শুধু একটি স্থাপত্য নিদর্শন নয়, বরং পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে দেখার একটি আকর্ষণীয় স্থান হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে।
তবে এটি ভারতের আগ্রার মূল তাজমহল নয়; বরং তার স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে নির্মিত একটি আধুনিক স্থাপনা। এ কারণে পর্যটনপ্রেমীদের কাছে ‘বাংলার তাজমহল’ হিসেবে পরিচিত হলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্যমূল্য আগ্রার তাজমহলের সঙ্গে এক নয়।
সোনারগাঁওয়ের প্রাচীন লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর, পানাম নগরসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর পাশাপাশি বাংলার তাজমহলও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও পর্যটনসুবিধা বাড়ানো গেলে সোনারগাঁওয়ের পর্যটন সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হবে।