গৌরনদীর বাটাজোরে এক আতঙ্কের নাম আজাদ প্যাদা

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের এক আতঙ্কের নাম ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আজাদ প্যাদা । সম্প্রতি ইউনিয়নের ঘেয়াঘাট গ্রামের একটি হিন্দু পরিবারের সালিশি করে (১৫০,০০০)এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এই নেতার বিরুদ্ধে। যা ইতিমধ্যেই ইউনিয়নে চাঞ্চল্যতা সৃষ্টি করেছে।

নিহত গীতা রানী দাসের স্বজন এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়,  প্রায় দেড় বছর ধরে ইউনিয়নের ঘেয়াঘাট গ্রামের লক্ষণ শীলের ছেলে সঞ্জয় শীলের সঙ্গে গীতা রানী দাস এর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তারা শাখা সিঁদুর ও মালা বদল করে কথিত বিয়ে করেন। প্রায় দেড় মাস আগে গীতা রানী দাস একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। সন্তান জন্মের পর সঞ্জয় শীল, গীতা রানী ও তার সন্তানকে মেনে নিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে বিএনপি নেতা আজাদ প্যাদা তার লোকজন নিয়ে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। সালিশে গীতা রানী ও তার কন্যা সন্তানকে ১৫ দিনের মধ্যে মেনে নিয়ে সংসার করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এরপর সঞ্জয় শীল আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় দ্বিতীয় দফায় ১১ই সেপ্টেম্বর সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আজাদ প্যাদার নেতৃত্বে ওই সালিশ বৈঠকে সঞ্জয়ের সঙ্গে গীতা রানীর সম্পর্ক ছিন্ন করার বিনিময়ে গীতা রানীকে ১৫০০০০, (এক লক্ষ) পঞ্চাশ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টি গীতা রানী মেনে নিতে না পেরে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ঐদিন দিবেগত রাতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরের দিন উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্ব্যস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে গীতা রানীর মৃত্যু হয়। বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায় গীতা রানী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গীতা রানীর মৃত্যু বিষয়টি এলাকার লোকজন ও নিহতের স্বজনদের কাছে সন্দেহ হলে লাশ বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে সালিশ বৈঠকের এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা আজাদ প্যাদা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ গীতা রানীর স্বজনদের। তাদের দাবি আজাদ প্যাদার নির্দেশেই সঞ্জয় শীল আত্মগোপন করে। তবে আজাদ প্যাদা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন-তার শত্রু থাকতে পারে, তারা এগুলো করছেন। তিনি জানান এ ঘটনায় তিনি কোন সালিশ বৈঠক করেননি, এমনকি কোন রায়ও দেননি। মুঠো ফোনে ঘটনা সম্পর্কে আরো জানতে চাইলে তিনি এবিষয় কথা বলবেন না বলে জানান এবং প্রতিবেদককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আজাদ প্যাদার সাথে যোগাযোগের কিছু সময় পর গৌরনদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং দৈনিক নয়াদিগন্তের সাংবাদিক জহির পরিচয়ে প্রতিবেদককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। 

আজাদ প্যাদা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সূত্রে আরো যা জানা যায়, সরকার পতনের পর ইউনিয়নের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করা, মাদক কেনাবেচায় জড়িত থাকা, এলাকায় সালিশ-দরবার করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, পুলিশ দিয়ে নিরিহ লোকদের ধরানো এবং ছারানো, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, জহির উদ্দিন স্বপনের নাম ভাঙ্গিয়ে জমি দখল এবং জমি উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে উভয় পক্ষ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, তারেক রহমানের খালকাটা কর্মসূচির খালের মাটি দিয়ে জমি ভরাট ও সরকারি গাছ বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা সহ অসংখ্যা অভিযোগ উঠেছে এই আজাদ প্যাদার বিরুদ্ধে।

 ১১ ই নভেম্বর ২০২৪ সালে ইউনিয়নের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মামলার ভয় দেখিয়ে ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন এই দুর্ধর্ষ দালাল আজাদ প্যাদা । ইউনিয়নের সকল বিএনপি নেতৃবৃন্দই তার কাছে নবজাতক শিশু। ৫ই আগস্টের পর স্থানীয় আ.লীগ নেতাকর্মীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েও নারীলোভী আজাদ প্যাদা হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

কির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া, আওয়ামীলীগের যে সমস্ত নেতাকর্মীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তাদের কিছু নাম নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
১.ইউনিয়ন ৮ নং ওয়ার্ডের গৌরনদী উপজেলা যুগ্ম সম্পাদক, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা, মোঃ সোহেল মেম্বার।
২. বাটাজোর ইউনিয়ন এর ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি, রেজাউল শেখ মেম্বার ।
 ৩. বাটাজোর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ডায়মন শেখ । (এর কাছ থেকে ৭০০,০০০ সাত লক্ষ টাকা নিয়েছে।)
 ৪. এনামুল হক সরদার (সামের্ত), গৌরনদী পৌরসভার সাবেক মেয়র হারিজ বাহিনীর সদস্য ও ব্যবসায়িক পার্টনার । এদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এলাকায় থাকার অনুমতি দিয়েছেন আজাদ প্যাদা।
৫.সাগর হাওলাদার এবং মিদুল তালুকদার, ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা।এরা হলো আজাদের আত্মীয় এদেরকে সেল্টার দিয়ে রেখেছেন। এখানেই শেষ নয়। কার থেকে কতটাকা নিয়েছে তার আরো কিছু তথ্য প্রমান নিচে দেওয়া হলঃ
৬. দুই নং ওয়ার্ড এর দক্ষিণ পশ্চিম পাড়ার গোপাল মাদবার এর কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা নিয়েছে যিনি এখন জেল হাজতে আছে। 

 ৭. এক নাম্বার ওয়ার্ড এর ভাঙ্গারি রুহুল এর কাছ থেকে দশ হাজার টাকা ।
৮. জয়শ্রীকাঠি পান চুরির সালিশি করে ১০০০০ টাকা।
৯. শৌলকরের বাবুলের বউ নিয়ে সালিশ করে ৫০ হাজার টাকা।
১০. শৌলকরের করিম খান ছেলের ছেলের মারামারির সালিশ করে ৩০ হাজার টাকা । 
বাটাজোরের বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা নিয়েছে আজাদ। এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে আজাদ। 

কয়েক দিন আগে চন্দ্রহারের জলিলের ছেলে সোহেল, এরপরের সপ্তাহে পশ্চিম চন্দ্রহারের (বাদামতলার) ওয়াইফাই রাকিব, এরও আগে বাটাজোরের কৃষ্ণের ভাইকে আজাদ নিজে এদের সবাইকে কিল, ঘুসি ও লাথি মেরেছে। বাবা, চাচা, দাদা, নানার বয়সী কাউকেই ছাড়া দেয়না এই সন্ত্রাস আজাদ প্যাদা। সার্থে সামান্য টান পরলেই যে কাউকে কথায় কথায় মারধর, বাবা মা তুলে গালিপালাজ, অপমান অপদাস্ত করা তার কাছে পান্তাভাত। এলাকাবাসী তার এমন অত্যাচারে অতিষ্ট।
আজাদ প্যাদার বাবা কাঞ্চন প্যাদা ছিলেন নিষিদ্ধ সর্বহারা পার্টি কামরুল গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ও ইউনিয়নের বাসুদেব পাড়া নিবাসী আলম সরদার হত্যা মামলার আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্ত কয়েদি । কিন্তু দলের প্রভাব খাটিয়ে তাকে যাবিনে বের করে।
 এলাকার হিন্দু পরিবারগুলো যে ঘরে সুন্দরী নারী রয়েছে তারা চরম আতঙ্কে দিন পার করছে। ৫ই আগস্টের পর স্থানীয় আ.লীগ নেতাকর্মীদের স্ত্রী ও কন্যা সন্তানরা তার হাত থেকে রেহাই পায়নী। জান মালের ভয়ে ও সামাজিক সম্মান, বিবেচনায় ভুক্তভোগীরা বিষয়গুলোকে প্রকাশ করছেন না।

ইউনিয়নবাসী আশা করেছিল, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসলে মানুষ মন খুলে কথা বলতে পারবে, জীবন নিয়ে দেখেছিল আশার আলো। কিন্তু বাস্তবতায় এসে দাঁড়ালো তার উল্টো। ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ নেতা আজাদ প্যাদার ভয়ে মুখ খুলতে চায় না কেউ। নিরীহ মানুষদের ঝামেলায় ফালানো এবং সেই ঝামেলা থেকে উদ্ধার করা এক জটিল সমীকরণের মধ্যে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন এই চতুর আজাদ প্যাদা । তাকে দাওয়াত না দিয়ে এলাকায় কেউ কোন অনুষ্ঠান, সালিশি দরবারী করতে পারে না। সালিশিতে রায় কি হবে, তার সিন্ধান্ত দেন এই নেতা। যেই পক্ষ তার পকেটে অর্থ যোগান দিতে পারেন, তার পক্ষেই  রায় হয়। ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক গরিব অসহায় মানুষের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা সহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা তার ইশারা ছাড়া পায় না কেউ। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, পুরো ইউনিয়নবাসী এখন আজাদ প্যাদার কাছে জিম্মি । অতি দ্রুত একে থামাতে না পারলে মানুষ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। দলের মধ্যে বিভাজোন তৈরি করেছেন, প্রতিদিনই কোন না কোন গ্রুপের সাথে মারামারি ,ফ্যাসাদ লেগেই থাকে।  এলাকাবাসীর দাবি বিএনপির তো নেতার অভাব পড়ে নায় যে একটা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক সম্রাটকে  ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি করতে হবে। তাই অত্র ইউনিয়নবাসী বিএনপির সর্বোচ্চ নেতৃবৃন্দের কাছে চাদাঁবাজ,দালাল, নারী লোভী, মাদক সম্রাট, বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আজাদ প্যাদার বিরুদ্ধে অতিদ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানান।