প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে দিল্লিতে জেন-জিদের বিক্ষোভ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) গনেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে—এমন আশঙ্কায় দিল্লিতে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। জেলা পুলিশ, রিজার্ভ বাহিনী, দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী (আরএএফ) এবং অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীকে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২০টি কোম্পানিও মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে দিল্লি মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১১টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ থাকবে। স্টেশনগুলো হলো—জনপথ, প্যাটেল চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, রাজীব চক, সেবা তীর্থ, মান্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাওড়ি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ ও নয়াদিল্লি। তবে রাজীব চক, মান্ডি হাউস, আইএনএ, নয়াদিল্লি ও কেন্দ্রীয় সচিবালয় স্টেশনে লাইন পরিবর্তনের সুবিধা চালু থাকবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিইসির পদত্যাগের দাবি উঠেছে। শুক্রবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হলেও দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, কর্মসূচি পালনের জন্য কোনো সংগঠনকেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।
শুক্রবার সকাল ১১টায় যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শুরুর কথা ছিল। সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতি (এআইএসএ) সেখানে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কর্মসূচির বিষয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপও মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে সিইসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মুম্বাই পুলিশও ওই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। ভারতীয় যুব কংগ্রেসও যন্তর মন্তরে কর্মসূচির অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু তাদেরও অনুমতি দেওয়া হয়নি।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে তলস্তয় মার্গ, জনপথ রোড ও সংসদ মার্গ থেকে যন্তর মন্তর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। তলস্তয় মার্গ ও কেরালা ভবনের দিক থেকেও বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। অশোকা রোডের কাছেও অতিরিক্ত ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া নয়াদিল্লি জেলায় নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। যানজট ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় দিল্লির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভকে ঘিরে দিল্লির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছেও আবেদন করা হয়েছে।