ডিমলার রাজিব টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নিহত, আটক ২

ডিমলা প্রতিনিধি: 

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাজীব হোসেন (২৯) টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মিন্টু (৩২) ও ফারুক নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত রাজীব হোসেন টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আবুল কালামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বুড়িমারী-ঢাকা মহাসড়কে ট্রাক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি দুই সন্তানের জনক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৪ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কুড়িগ্রাম থেকে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন রাজীব। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা এলাকায় ট্রাক থামিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে নামেন তিনি।

এ সময় কয়েকজন ছিনতাইকারী তার ওপর হামলা চালায় বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাজীবকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

রাজীবের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা মিন্টু (৩২) নামে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে ছিনতাইকারী দলের আরও তিন থেকে চারজন সদস্য ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফারুক নামে আরও একজনকে আটক করে।

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে জড়িত সন্দেহে মিন্টু ও ফারুক নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদঘাটনসহ এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে রাজীব হোসেনের মৃত্যুর খবর ডিমলার টেপাখড়িবাড়ীতে পৌঁছালে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুই সন্তানের বাবা রাজীবের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকাহত তার পরিবার।

এলাকাবাসী জানান, রাজীব দীর্ঘদিন ধরে ট্রাক চালিয়ে স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের জন্য কাজ করতে গিয়ে এভাবে তার প্রাণ চলে যাবে—এটি অত্যন্ত কষ্টের ও মর্মান্তিক। তার দুই সন্তান এখন বাবাহারা। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

স্থানীয়রা আরও বলেন, মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও টহল জোরদারের দাবি জানান তারা।

রাজীবের মৃত্যুতে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নসহ ডিমলার বিভিন্ন এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।