বাঁশের চাঙড়া থেকে স্থায়ী মন্দিরের পথে মধ্য নিজপাড়া দুর্গামন্দির

নিজেদের অর্থ ও শ্রমে নির্মাণকাজ, প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি সহায়তা

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি

একসময় পুকুরের ওপর বাঁশের চাঙড়া বানিয়ে দুর্গাপূজা আয়োজন করা হতো। পাকা মন্দির না থাকলেও রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধ্য নিজপাড়ার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অর্থ, শ্রম ও স্থানীয় সহযোগিতায় ধর্মীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এখন তাঁরা স্থায়ী মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও মন্দির কমিটি জানায়, ১৯৮৮ সালে মধ্য নিজপাড়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গামন্দিরের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে এলাকাবাসী পুকুরের একাংশ ভরাট করে টিনের ছাউনির মন্দিরঘর নির্মাণ করেন। সরকারি বা বেসরকারি উল্লেখযোগ্য অনুদান ছাড়াই স্থানীয়দের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে মন্দিরটির উন্নয়ন চলছে।

সম্প্রতি মন্দিরের সাইট ওয়াল ও ভিত্তি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্দিরের উপদেষ্টা বিন্দু গোপাল চন্দ্র বর্মন, দীনেশ চন্দ্র বর্মন ও দিননাথ চন্দ্র বর্মন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ পরিষদ ও শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব কমিটির কাউনিয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক বিজন গোস্বামী বকুল, সভাপতি মোহন রায় (ফুলবাবু), সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়, জমিদাতা দিনেশ রায়, মনোরায়, মন্ত রায়সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্দির কমিটির সভাপতি মোহন রায় বলেন, বাঁশের চাঙড়ায় পূজা আয়োজনের পর এলাকাবাসী পুকুরের অংশ ভরাট করে মন্দিরঘর নির্মাণ করেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও স্থানীয়রা অর্থ ও শ্রম দিয়ে উন্নয়নকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘‘নির্বিঘ্নে পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পূর্ণাঙ্গ মন্দির ভবন প্রয়োজন। এ জন্য সরকারের কাছে অনুদান বরাদ্দের আবেদন জানাচ্ছি।’’

কমিটি জানায়, সাইট ওয়াল ও ভিত্তির কাজ শুরু হলেও পূর্ণাঙ্গ মন্দির নির্মাণে আরও অর্থ প্রয়োজন। সীমিত আয়ের স্থানীয়দের পক্ষে এককভাবে এ নির্মাণ শেষ করা কঠিন। তাই সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দাতা ব্যক্তি ও বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সহযোগিতা পেলে নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হবে এবং মন্দিরটি ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার কেন্দ্র হয়ে উঠবে।