শিক্ষকতা শুধু পেশা নয়, ভালোবাসা ও আত্মপরিচয়ের অংশ: আবদুল মালেক

মোঃ মাইন উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয় এটি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও আত্মপরিচয়ের অংশ। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এমন অনুভূতির কথা জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এণ্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল মালেক।

নিজের স্ট্যাটাসে তিনি শিক্ষকতার দায়িত্ব, শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকের দায়বদ্ধতা এবং পেশাটির মানবিক দিক তুলে ধরেন। তিনি লিখেছেন, একজন শিক্ষক প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে শুধু পাঠদান করেন না শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে শেখান, সাহস দেন, ভুল শুধরে দেন এবং তাদের সাফল্যের জন্য নীরবে কাজ করেন। একজন শিক্ষক হয়তো একসঙ্গে পুরো পৃথিবী বদলে দিতে পারেন না, তবে তাঁর একটি কথা কিংবা সঠিক দিকনির্দেশনা একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তিনি তাঁর শিক্ষক ও সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাঁর এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি প্রকাশ করেন।
মুহাম্মদ ফয়সল নামে তাঁর এক প্রাক্তন ছাত্র ও সহকর্মী মন্তব্যে বলেন, অধ্যক্ষ আবদুল মালেকের নেতৃত্ব ও রুচিবোধ প্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ছোট-বড় সব সহকর্মীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন সৎ, বিনয়ী, মানবিক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি।

অন্য এক শিক্ষার্থী সুরাইয়া রহমান মন্তব্যে অধ্যক্ষ আবদুল মালেককে তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ‘রাইট’ মন্তব্য করেন গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও কুলিয়ারচর উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহসিন রানা বাদল।

মুহাম্মদ আবদুল মালেকের শিক্ষকতার সঙ্গে পারিবারিক ঐতিহ্যেরও যোগ রয়েছে। তিনি কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের পশ্চিম গোবরিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা মরহুম মোঃ আবদুল হাইয়ের সন্তান। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। তাঁর এক দাদাও ঢাকা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন।

পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য বর্তমানে শিক্ষা ও অন্যান্য পেশায় যুক্ত রয়েছেন। তাঁর ছোট ভাই মোঃ আবদুল খালেক বীর কাশিম নগর এফ.ইউ উচ্চ বিদ্যালয়ের এবং মোঃ আবদুল কাদির বেগম নূরুন্নাহার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা মুহাম্মদ কাইসার হামিদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যান্টি এয়ারক্রাফট রেজিমেন্ট আর্টিলারির সাবেক আর্মস কমান্ডোপ্রাপ্ত গানার। বর্তমানে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত।

শিক্ষকতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের এই ধারাবাহিকতায় মুহাম্মদ আবদুল মালেকের নেতৃত্বে ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এণ্ড কলেজের শিক্ষার পরিবেশ আরও এগিয়ে যাবে- এমন প্রত্যাশা স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।