চাঞ্চল্যকর রাহুল হত্যার রহস্য উদঘাটন ২ বছর পর আসামী গ্রেফতার

তাছলিমা তমাঃ

২০২৪ সালে সংঘটিত আশুলিয়া থানার চাঞ্চল্যকর অটোরিকশা চালক রাহুল হত্যার রহস্য উদঘাটনে জড়িত ৪ জন আসামীকে  পিবিআই ঢাকা জেলা গ্রেপ্তার বলে জানা যায়। পিবিআইর প্রেস নোট অনুযায়ী পাওয়া তথ্যমতে, আশুলিয়ার অটোরিকশা চালক মোঃ সবুজ মিয়া (২৭) এবং মোঃ লালন মোল্লা (৪০) হত্যা মামলার (আশুলিয়া থানার ১০৮ ধারা)

 দ্বিনিভূত মোঃ হাবুল (১৯), পিতা-মোঃ আজু মোল্লা, সাং-শিবপুর, থানা-শিবপুর, জেলা-নরসিংদী ও মোঃ রাসেল (২০), পিতা-আবুল কাশেম, সাং-শিবপুর, থানা-নরসিংদী, জেলা-নরসিংদী এর বর্ণনার ভিত্তিতে গত ০৮/০২/২০২৪ তারিখ রাত ২১.৩০ ঘটিকার সময় আশুলিয়া থানা থেকে হাবুলের খালাতো ভাই অটোরিকশা ভাড়া করে নিয়ে যায়। ০৯/০২/২০২৪ তারিখ রাত্রিতে না ফেরায় পরের দিন খোঁজাখুঁজি করে অটোরিকশা ভুইয়ার পুকুরের পাড়ে পাওয়া যায়নি। ০৯/০২/২০২৪ তারিখ সকাল অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় জামগড়া সাকিনস্থ, পুকুর পারে জঙ্গলের মধ্যে থাকা এর দুটি লাশের সন্ধান পাই। পরবর্তীতে তাদের লাশ ৫৪ ধারা ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়। এই সংক্রান্তে আশুলিয়া থানার মামলা নং-১১, তারিখ-০৯/০২/২০২৪, ধারা-৩০২/৩৪/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।

শিক্ষানবিশ পুলিশ সুপার অতিরিক্ত জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে নিবিড়ভাবে তদন্ত কার্য শুরু হয় এবং পুলিশ সুপার এম, এম, মোর্শেদ, পিবিআই ঢাকা জেলা এর দিকনির্দেশনায় একটি চৌকস টিম অজ্ঞাতনামা আসামীদের সনাক্ত করে। আসামী (১) শিপন, পিতা-মৃত সাহেব, সাং-পাচরুখী থানা-নরসিংদী, জেলা-নরসিংদী গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

তদন্তে জানা যায়, আসামীদের পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ভিকটিম রাহুল এবং সবুজ মিয়া অটোরিকশা চালানোর কাজে থেকে ইয়াবা বিক্রি এবং তারা এলাকায় ইয়াবা সেবন করত। লালন সবুজের কাছে জানতে পারে যে, তার ইয়াবা বিক্রির টাকা সবুজ মিয়ার কাছে রয়েছে। এই টাকা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় দাবি করে আসছিল। কিন্তু সবুজ মিয়া দিতে অস্বীকার করায় পরিকল্পনা অনুযায়ী ০৮/০২/২৪ তারিখে অনুমানিক রাত ১০ টায় লালন সবুজকে নিয়ে যায় এবং জামগড়া এলাকার জঙ্গলে অটোরিকশা মানারের খোলা মাঠে বেঁধে নিয়ে যায়। সেখানে লালন, সজল, সবুজ ও সোহেল পূর্বে থেকেই উপস্থিত ছিল। তারা প্রথমে সবুজকে জামা খাওয়ায়। এক পর্যায়ে সবুজকে বুকে লালন লোহার এঙ্গেল দিয়ে বাড়ি দিয়ে হাতের বাম দিকের বুকের বাঁ দিকে মাথা ফেটে রক্ত বের হয়। মাঝপথে কানে ও মুখে ঘুষি দিয়ে আঘাত করে। তারা রাহুলের অটোরিকশার ব্যাটারী নিয়ে হাতলের ছুরি দিয়ে আঘাত করে এবং শ্বাসরোধ করে রাহুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে। রাহুলের মৃতদেহ অটোরিকশায় বসিয়ে তারা আসামী সজলের গ্যারেজে নিয়ে যায়। আসামীরা সেখানে মৃতদেহ দুইদিন রাখে এবং ০৯/০২/২৪ তারিখে রাত অনুমানিক ১.০০ ঘটিকার পরে মৃতদেহ ওপর ফাঁকা জায়গায় ফেলে দেয় এবং পাশে ফেলে রাখে এবং পরবর্তীতে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ডিজিটাল বাহনের অটোরিকশাটি মেঝে থেকে আসামীরা বিক্রি করে দেয় এবং বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।

এ বিষয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জনাব এম,এম, মোর্শেদ, পিপিএম বলেন, "চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার মামলাটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স হতে তদন্তভার প্রাপ্তির পর হতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। নিরলস ভাবে তদন্তের মাধ্যমে দীর্ঘ আড়াই বছরেরও বেশি সময়ের পুরনো চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাথে জড়িত সকল আসামীদের গ্রেফতার করতে আমরা সক্ষম হই।