সংবিধান সংশোধনে সরকারের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান, রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা জামায়াতের
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিএনপি সরকার গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কারের বদলে প্রচলিত পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ফলে এই প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে সরকারকে অবস্থান বদলাতে চাপে রাখতে সংসদের পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
জামায়াতের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধান ‘সংশোধন’ ও ‘সংস্কার’—দুটি বিষয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে রাষ্ট্রসংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। সেই গণভোটে প্রাপ্ত অনুমোদন শুধু বিদ্যমান সংবিধানের কিছু ধারা সংশোধনের জন্য নয়; বরং ‘জুলাই সনদে’ থাকা সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাব পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য দেওয়া হয়েছিল।
জামায়াত নেতাদের আশঙ্কা, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবাদে সরকার নিজেদের মনমতো সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারে। বিশেষ কমিটিতে অংশ নিলে সরকারের এই প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়া হবে—এমন যুক্তিতেই তারা ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটিতে কোনো প্রতিনিধি দেননি।
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, জাতীয় সংসদ সংবিধানসৃষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সংবিধানের মৌলিক পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নে জনগণই চূড়ান্ত সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস। গণভোটে জনগণ যে প্রক্রিয়া অনুমোদন করেছে, সেটি পাশ কাটিয়ে বিকল্প উপায়ে সংবিধান সংশোধন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে রাজপথের এসব কর্মসূচিকে আপাতত সরকার পতনের আন্দোলন হিসেবে দেখছেন না জামায়াতের নেতারা। তাদের মূল লক্ষ্য—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর করা এবং জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট দাবি আদায়ে জনমত গড়ে তোলা। সরকার যদি বিরোধীদের এসব দাবি উপেক্ষা করে, তবে ভবিষ্যতে লংমার্চসহ মাঠের আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।