জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার সুরাইল মোড়ে অবস্থিত কালাই অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়।২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষাদানে কাজ করে যাচ্ছে।তবে সরকারি অনুমোদন ও এমপিওভুক্তি না থাকায় নানা সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম।
অবশেষে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে এসে সরকারি অনুমোদন ও এমপিওভুক্তির বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো.আব্দুল বারী এমপি। পাশাপাশি শিশুদের যাতায়াতের জন্য অটোভ্যান ও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করার কথাও জানান তিনি।
এদিকে বিদ্যালয়টির শিশুদের কথা জানতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী নাজমা আরা বারী।
রবিবার(১১অক্টোবর)বিকেল ৩টায় জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার সুরাইল মোড়ে অবস্থিত কালাই অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত স্বাগত ও শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বারী এমপি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মিসেস নাজমা আরা বারী,কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম হোসেন, ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোক্তারুল আলম, কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সাইদুল আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু তাদের অভিভাবক, শিক্ষক ও সেবিকারা উপস্থিত ছিলেন।এ সময় বিদ্যালয়ের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু হুমায়ুন মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করে অতিথিদের মুগ্ধ করে।
বিদ্যালয়টির কার্যক্রম ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ সম্পর্কে জানতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী নাজমা আরা বারী। একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর এই আবেগঘন মুহূর্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিদের মধ্যে আবেগের সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ, সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা নাসরিন নাহার,সহকারী শিক্ষিকা মাহবুবা শান্তা,সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিমসহ অন্য শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো.গাউছুল আজম সাংবাদিকদের বলেন,২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিদ্যালয়টি পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি অনুমোদন ও এমপিওভুক্তি না থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় আর্থিক সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মো.আব্দুল বারী এমপি বিদ্যালয়টির সরকারি অনুমোদন ও এমপিওভুক্তির বিষয়ে আশ্বাস দেন।
পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের যাতায়াতের সুবিধার্থে অটোভ্যান এবং দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করার কথাও জানান তিনি।তবে বিদ্যালয়টির সরকারি অনুমোদন ও এমপিওভুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
উল্লেখ্য,সংবাদমাধ্যম দৈনিক ঘোষণা,দৈনিক আজকের জনবাণী,দৈনিক জনতার জমিন, সকালের সংযোগ ২৪’ ও গণকণ্ঠ মাল্টিমিডিয়া’য় বিদ্যালয়টির কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশা, প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি। এতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।