স্পেন-ফ্রান্স সেমিফাইনাল মহারণ: পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?
বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সেমিফাইনাল লড়াইয়ে আজ (১৪ জুলাই) রাতে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুই দলই দারুণ ছন্দে থাকায় এই ম্যাচকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট—প্রতিটি ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় সেমিফাইনালে পৌঁছেছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। অন্যদিকে, স্পেন প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র করলেও এরপর টানা জয় তুলে নিজেদের অন্যতম শিরোপা দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সর্বশেষ ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আত্মবিশ্বাসও দলটির বড় শক্তি।
দুই প্রতিবেশী দেশের ফুটবল লড়াইয়ের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দল ৩৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে স্পেন জয় পেয়েছে ১৮টি ম্যাচে, ফ্রান্স জিতেছে ১৩টি এবং বাকি ৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ সামগ্রিক মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে রয়েছে স্পেন।
তবে বড় টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। ১৯৮৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ফ্রান্স। এরপর ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পেনকে ৩-১ গোলে বিদায় করেছিল লে ব্লু। এছাড়া ২০২১ সালের উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালেও স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নেয় ফরাসিরা। ফলে চাপের ম্যাচে ফ্রান্সের সাফল্যের ইতিহাস স্পেনের জন্য বাড়তি সতর্কবার্তা।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের আধিপত্য স্পষ্ট। গত দুটি বড় মহাদেশীয় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়েছে লা রোজা। ২০২৪ সালের ইউরো সেমিফাইনালে ২-১ গোলের জয় এবং ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয় স্পেনের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সর্বশেষ পাঁচটি মুখোমুখি লড়াইয়েও সামান্য এগিয়ে স্পেন। এই পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে স্প্যানিশরা, আর দুটি ম্যাচ জিতেছে ফ্রান্স। সর্বশেষ দেখায় নেশনস লিগের সেমিফাইনালে ৫-৪ গোলের নাটকীয় জয়ে ফাইনালে উঠেছিল স্পেন।
পরিসংখ্যান, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় স্পেন কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বড় ম্যাচে ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা ও সাফল্য এই সেমিফাইনালকে করে তুলেছে সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। তাই ফুটবলপ্রেমীরা প্রত্যাশা করছেন দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির মধ্যে আরেকটি রোমাঞ্চকর ও উচ্চমানের লড়াই।