দুর্নীতিতে জড়িত কাউকেই ছাড় নয়: জামায়াত আমির
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও Bangladesh Jamaat-e-Islami–এর আমির Shafiqur Rahman বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হলে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীভিত্তিক ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। দুর্নীতির সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক—নিজ দল, সরকার কিংবা প্রশাসনের কেউ—কাউকেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়।
বুধবার (১৬ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, দেশে দুর্নীতি একটি গভীরমূল সমস্যা হিসেবে বিস্তৃত হয়েছে এবং এটি নির্মূল করতে হলে সর্বস্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। “দুর্নীতি বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেবে—এটা আমরা চাই। কিন্তু আমাদের ভেতরে যদি পক্ষপাতিত্ব, আশ্রয়-প্রশ্রয় বা লাইক-ডিসলাইক কাজ করে, তাহলে দুর্নীতি দূর হওয়ার কোনো সুযোগ নেই,” বলেন তিনি।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘসূত্রতা বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ বছরের পর বছর চললেও নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় না। অনেক ক্ষেত্রে একটি কাজ শেষ হওয়ার আগেই অন্যত্র নতুন সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থনৈতিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন সংসদ থেকে শুরু করে ব্যাংক-বিমা, করপোরেট খাত ও শেয়ারবাজার—সব জায়গায় এর বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায় জনগণ।
দুর্নীতির দায় নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো একক গোষ্ঠীর ওপর দায় চাপিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। “কেউ আমলাদের দোষ দেন, কেউ ব্যবসায়ীদের, কেউ রাজনীতিবিদদের। কিন্তু আমি বলি—দায় আমাদের সবার। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়,” বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সরকার প্রধান দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কথা বলেছেন—এটি বাস্তবে কার্যকর দেখতে চায় জনগণ। তিনি রূপকভাবে বলেন, “প্রথমে দুর্নীতির হাত চেপে ধরতে হবে, প্রয়োজনে হাতকড়া পরাতে হবে। এরপরও যদি থামে না, আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “আমরা কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নই। নিজের ভুল স্বীকার করার মধ্যেই বড় যোগ্যতা রয়েছে। যারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারবে, তারাই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।”
তার এই বক্তব্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।