মিয়ানমার উপকূলে নৌকাডুবি: ৫০০ জনের বেশি নিহতের শঙ্কা
মিয়ানমারের রাখাইন উপকূল থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করা দুটি ট্রলার ডুবির ঘটনায় ৫০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে UNHCR।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ABC News–এর খবরে জানানো হয়, গত জুনের শেষের দিকে রাখাইন রাজ্য থেকে রওনা দেওয়া ট্রলার দুটি বঙ্গোপসাগরে ডুবে যায়। এতে বিপুলসংখ্যক প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ে তারা অনুসন্ধান চালাচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্রলার দুটিতে ঠিক কতজন আরোহী ছিলেন কিংবা সাগরের কোন স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে—তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
২০১৭ সালের Rohingya genocide 2017–এর পর সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশের Cox's Bazar Rohingya camps–এ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও কড়াকড়ির কারণে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এখনও অনিশ্চিত।
এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় শরণার্থী শিবিরে খাদ্য রেশনে কাটছাঁট করা হয়েছে। ফলে উন্নত জীবনের আশায় অনেক রোহিঙ্গা বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে পাড়ি জমাচ্ছেন। এসব যাত্রায় নারী, শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের এই সমুদ্রপথ এখন বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক রুটে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে পালানোর চেষ্টা করেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৯০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হন। চলতি ২০২৬ সালেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে—এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৪০০ জনের বেশি শরণার্থী নৌপথে যাত্রা করেছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইউএনএইচসিআর।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের কথা স্মরণ করিয়ে সংস্থাটি বলেছে, সাগরে বিপদে পড়া মানুষদের উদ্ধার করা একটি মানবিক ও আইনি দায়িত্ব। এ প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।