হামে আক্রান্ত ১৮% শিশুর বয়স ছয় মাসের নিচে

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

দেশে হামের প্রকোপের মধ্যে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও শিশুরোগ চিকিৎসকদের নতুন করে উদ্বেগে ফেলেছে। রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ১৮ শতাংশের বয়স ছয় মাসেরও কম।

এতদিন চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রচলিত ধারণা ছিল, জন্মের পর শিশু মায়ের শরীর থেকে পাওয়া রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং বুকের দুধের মাধ্যমে হামের মতো সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে কিছুটা সুরক্ষা পায়। সেই কারণেই দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় হামের প্রথম টিকা ৯ মাস বয়সে দেওয়া হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই ধারণাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৭১০ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় ১৪ হাজার ৩১৮ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৬৮৯ জন এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জনের। শুধু গতকালই হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত দেশের ৫৩ জেলা থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৭৭০ শিশু ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৩৪ জনের বয়স ছয় মাসের নিচে এবং ১৯২ জনের বয়স পাঁচ বছরের বেশি। এছাড়া নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ৩৬৮ শিশুর মধ্যে ৬৬ জনের বয়স ছয় মাসের কম এবং ৩৬ জনের বয়স পাঁচ বছরের বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ছয় মাসের কম বয়সী এবং পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুরাও উল্লেখযোগ্য হারে আক্রান্ত হচ্ছে, যা প্রচলিত টিকাদান কৌশল ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, "মায়ের কাছ থেকে পাওয়া রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং বুকের দুধ এতদিন শিশুদের সুরক্ষা দিত। কিন্তু এখন ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সেই সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিষয়টি নিয়ে গভীর গবেষণা ও অনুসন্ধান জরুরি।"

উল্লেখ্য, চলতি বছরের হাম-রুবেলা জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইনে প্রথমবারের মতো ছয় মাস বয়সী শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও কার্যকর প্রতিরোধ কৌশল গ্রহণ এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নিয়ে বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।